ফেনী
বুধবার, ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৭:৩৯
, ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

ফেনীর ৩টি আসনে ১৪ দলীয় জোটে প্রার্থী ছড়াছড়ি: ২০ দলীয় জোটে নীরব প্রস্তুতি

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ফেনী-৩ টি  আসনে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা আগাম প্রচারনা শুরু করেছেন। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব আসনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন এ নিয়ে ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝেও কৌতুহল দেখা দিয়েছে। দলীয় প্রার্থী নিয়ে ঘরানা আলোচনায় নানা হিসাব নিকাশ করছেন জামায়াত-জাতীয়পার্টির নেতাকর্মীরা। বর্তমান সাংসদ শিরিন আক্তার ও রহিম উল্লাহ’র বিতর্কিক কর্মকান্ডের কারনে দলীয় নেতাকর্মীদের তোপের মুখে থাকায় ফেনী-১ ও ৩ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের গুঞ্জন রয়েছে। এছাড়া ফেনীর ৩ টি আসনে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে একাধিক প্রার্থী রয়েছে। আর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীরা নিরব ভূমিকায় রয়েছে । তবে দলীয় কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থীদের সরব তৎপরতা দেখা গিয়েছে।
ফেনী ১ (ছাগলনাইয়া,পরশুরাম ও ফুলগাজী)
১৪ দলীয় জোট : ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জাসদের সাধারণ স¤পাদক শিরীন আখতার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এরপর থেকে তিনি এলাকার উন্নয়ন ও গ্রামাঞ্চলে গিয়ে উঠান বৈঠক করে নারীদের সু-সংগঠিত করেছেন বলে দাবী করে এবারও ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে স্থাানীয় আওয়ামীলীগের নেতারা শিরীন আখতার এমপির সমালোচনা করে এবার দলীয় প্রার্থী ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিতে আওয়ামীলীগের সাধারন স¤পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের প্রতি অনুরোধ জানান। ১০ জুন ফেনী শহরের পাগলা মিয়া রোডস্থা ডিএম কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত জেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় স্থাানীয় নেতারা বক্তব্য দিতে গিয়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদেরের প্রতি এ অনুরোধ জানান।
আর আওয়ামীলীগ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক প্রটোকল অফিসার ও ফেনী জেলা আওয়ামীলীগের নিয়ন্ত্রক আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, সাবেক মন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম বীরবিক্রম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব এনায়েত উল্ল্হা খোন্দকার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি খায়রুল বাশার তপন,বিশিষ্ট ব্যাংকার জালাল উদ্দিন আহমেদ পাপ্পু, পরশুরাম উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান কামালউদ্দিন মজুমদার, ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল মনোনয়ন চাইবেন বলে তাদের ঘনিষ্টজন সুত্র জানিয়েছে।
তবে ৭ জুলাই পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়ায় নিজ নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না বলে ঘোষনা দিয়েছেন। তিনি আড়ালে থেকে দলের জন্য কাজ করে যেতে চান ।
আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি খায়রুল বাশার তপন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুরোধে ২০১৪ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে জাসদকে ছেড়ে দেন। এবার ছাড় দিবেন না বলে জানান তিনি।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরশুরাম উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদারকে মনোনয়ন দিলে তিনিও কাজ করে যাওয়ার ব্যপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়া সাংগঠনিক কার্যক্রম ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে দলীয় সুত্র জানায়।
এ ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য তৃণমূলে কাজ করে যাচ্ছি। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী  ওবায়দুল কাদের, আলাউদ্দিন আহাম্মেদ চৌধুরী নাসিম ও নিজাম উদ্দিন হাজারীর দিক নির্দেশনায় আগামীতেও কাজ করে যাবো। দল যাকে মনোনয়ন দিবে তাকে বিজয়ী করতে প্রাণপন চেষ্টা করে যাবো।
জাতীয় পার্টি থেকে এ আসনে পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা নাজমা আক্তার, ঢাকাস্থা ফেনী সমিতির সাবেক সাধারণ স¤পাদক গণি আহাম্মদ মনোনয়ন প্রত্যাশী।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি নূরুন নেওয়াজ সেলিম ও এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এমএ কাসেম প্রার্থী হতে পারেন। এদের মধ্যে নূরুন নেওয়াজ সেলিম ও এমএ কাসেম যে দল থেকে মনোনয়ন টিকেট পাওয়ার নিশ্চিয়তা পাবেন সে দল থেকেই নির্বাচন করবেন বলে তাদের ঘনিষ্টজন জানায়।
২০ দলীয় জোট: ২০ দলীয় জোট থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন বলে দলীয় সুত্র নিশ্চিত করেছে। তাদের মতে, ফেনী জেলা খালেদা জিয়ার জন্মভূমি হওয়ায় এখানকার মানুষের কাছে তার অন্য রকম গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।  তাই অন্যান্য আসন থেকে নির্বাচন করলেও প্রতিটি নির্বাচনে নাড়ির টানে এ আসনটিতে প্রতিনিধিত্ব করেন খালেদা জিয়া।
ফেনী-১ আসন থেকে টানা পাঁচবার প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন খালেদা জিয়া। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় এ আসনে জাসদের সাধারণ স¤পাদক শিরীন আখতার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
বিগত দিনে স্থাানীয় সরকার নির্বাচনে  ছাগলনাইয়া,পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ হাতছাড়া হয়েছে বিএনপির। তবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী তারা। ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর মামলা-হামলায় বর্তমানে কোণঠাসা হয়ে আছে এখানকার বিএনপির নেতাকর্মীরা।
তবে কোন কারনে এ আসন থেকে খালেদা জিয়া প্রার্থী না হলে পরশুরাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ স¤পাদক আবু তালেব মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে দলীয় সুত্র জানায়। তবে সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত বলে জানান পরশুরাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ স¤পাদক আবু তালেব।
এ ছাড়া দলীয়ভাবে সম্ভব না হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক প্রকাশনা স¤পাদক দিদারুল আলম মজুমদার ও ফেনী জেলা জামায়াতের আমির একেএম সামছুদ্দিন।
ফেনী ২ (সদর)
১৪ দলীয় জোট : সংসদীয় সীমানা পুননির্ধারণের পর সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-২ (সদর) আসন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও জেলা সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী দলীয়  সাংগঠনিক শক্তি অনেক জোরালো করেছেন বিএনপি অধ্যুষিত এ জেলায়। গত কয়েক বছরে ৬ উপজেলা, ৫ পৌরসভা, ৪৪টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং সর্বশেষ জেলা পরিষদ নির্বাচনে সব কটি পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হন। তাই এবার প্রার্থী বাছাইয়ে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক অবস্থান বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে করে কোনো ব্যতিক্রম না ঘটলে ফেনী সদর আসনে এবারও নিজাম উদ্দিন হাজারী দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন।
তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরীসহ আরও দু-একজন দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেলেও তারা প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দেননি। ইকবাল সোবহান চৌধুরী ২০০৯ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে হেরে যান বিএনপি দলীয় প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ভিপির কাছে।
নিজাম হাজারীর রাজনৈতিক উত্থান খুব বেশি দিনের নয়। ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। এর আগে তিনি ২০১০ সালে ফেনী পৌরসভা নির্বাচনে তৎকালীন মেয়র বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আবসারকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়ে জেলার রাজনীতিতে নিজের ভিত গড়েন।
আগামী নির্বাচনে সরকারি দলটির মনোনয়নের ক্ষেত্রে এই দুজনকে নিয়ে জল্পনা থাকলেও জেলা আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক বর্ধিত সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য ফেনী-২ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীর প্রতি ‘গ্রিন সিগন্যাল’ বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত রয়েছে বলে জোর আলোচনা চলছে।
জেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় হানিফ বলেন, ‘নমিনেশন নিয়ে টেনশন করবেন না। নমিনেশন তারাই পাবে যারা জনগণের জন্য কাজ করেন, আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করেন। নিজাম উদ্দিন হাজারী ফেনী জেলা আওয়ামী লীগকে যতটা সুসংগঠিত করেছেন, তা আমি বাংলাদেশের কোনো জেলায় দেখিনি।’
জেলা নেতাদের মধ্যেও অনেকে নিজাম হাজারীর প্রতি নিজেদের সমর্থনের কথা জানান। জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আক্রামুজ্জামান বলেন, ‘নিজাম হাজারীর ত্যাগ আর প্রত্যক্ষ সংগ্রামে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের  সাংগঠনিক শক্তির ভিত তৈরি হয়েছে। যাদের ত্যাগ-তিতিক্ষায় তৃণমূলে দল দাঁড়িয়ে আছে তাদের মনোনয়ন দেয়া হোক। অতিথি পাখি দেখতে চাই না আমরা। জনগণের সঙ্গে আত্মিক ও সাংগঠনিক সম্পর্ক রয়েছে তাদের মনোনয়ন দেয়া হলে ফেনীর তিনটি আসনইজননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেয়া সম্ভব।’

২০ দলীয় জোট : বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মামলা-হামলায় কোণঠাসা বিএনপি। ফলে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন নির্বাচনে অনেক জায়গায় প্রার্থী দিতে পারেনি বিএনপি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল অংশ নেবে এমনটা ধরে নিয়ে এই আসনে বিএনপি থেকে মূলত প্রস্তুতি নিচ্ছেন দুজন। এ ছাড়া শরিক দলসহ আছেন আরো অন্তত তিনজন। তারা হলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ভিপি, কেন্দ্রীয় সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক রেহানা আক্তার রানু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন মিষ্টার, প্রচার সম্পাদক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক,জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও সাবেক জেলা আমির অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঞা। জেলার অন্য কোনো আসন পেলে এটি ছেড়ে দিতে পারে জামায়াত।

এ আসনে ২০০৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ভিপি। এর আগে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির এই প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারীও।
বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় জেলার তিনটি আসনই চলে যায় আওয়ামী লীগের দখলে। আগামী নির্বাচনে অংশ নিয়ে সব কটি আসন পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যাকে মনোনয়ন দেবেন তাকেই দলমত-নির্বিশেষে বিজয়ী করা হবে বলে নিজেদের আস্থার কথা জানান তারা।
ফেনী ৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী)
১৪ দলীয় জোট : আগামী নির্বাচনে এ আসন থেকে দলীয় টিকেট নিশ্চিত করতে পারলেই বিজয় নিশ্চিত বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। তাই এ আসনে নির্বাচনী কার্যক্রমে দলের হাই কমান্ডে আলোচনায় আসতে আগে ভাগেই আগ্রহীরা তাদের প্রার্থীতার জানান দিতে মাঠ ছড়ছেন। তারা বেশ কয়েকমাস ধরে ঈদ-পূজা-পর্বনে স্থাানীয় নেতাকর্মীদের সাথে নানা ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এছাড়াও নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যোগদান করে দলীয় নেতাকর্মীদের আগে ভাগে নিজের ভাগে রাখতে নানাভাবে কাজ করছেন তারা। কোথাও কোথাও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দিয়ে যাচ্ছেন তারা।
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ফেনী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান এমপি হাজী রহিম উল্লাহ, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল বাশার, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন,যুক্তরাষ্ট্র শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মহিলা  আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুর রহমান বিকম, সহ-সভাপতি আকরাম হোসেন হুমায়ুন, সোনাগাজী উপজেলার চেয়ারম্যান জে.এম কামরুল আনাম, জেলা যুবলীগের সভাপতি ও দাগনভুইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন’র নাম শুনা যাচ্ছে।
এদের মধ্যে সাবেক ছাত্র নেতা জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন সোনাগাজী-দাগনভুইয়াতে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা, উঠান বৈঠক এবং দলীয় কর্মসূচীসহ বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে যোগাদান করে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। দীর্ঘদিন থেকে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সুখে দুঃখে পাশে থেকেছেন। তাই আগামী সংসদ নির্বাচনে এ আসনের সামগ্রিক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন লিপটন।
এ ব্যপারে তিনি মনে করেন, রাজনীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনসাধারনের কল্যানে কাজ করা। এটি শুধু ক্ষমতা আর এমপি হবার জন্য নয়। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে জনগন ও দলীয় নেতাকর্মীদের কল্যানে কাজ করে যাব। দল থেকে মনোনয়ন না দিলেও তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন বলে জানান।
এদিকে বসে নেই যুবলীগ নেতা আবুল বাশার। তিনিও দুই উপজেলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদিতে যোগদান করে তিনি ভোটারদের দৃষ্টিতে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি সোনাগাজী ও ফেনী কেন্দ্রীক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীও ইতিমধ্যে তার প্রার্থীতার আগ্রহের কথা জানান দিয়েছেন ভোটারদের মাঝে। আর যুক্তরাষ্ট্র শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজামউদ্দিন চৌধুরীও মনোনয়ন লাভের আশায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এছাড়াও অভিনেত্রী সমি কায়সারও ফেনী-৩ আসনে প্রার্থী হতে পারেন বলে একটি সূত্র দাবী করেছেন। গত সংসদ নির্বাচনে তাক-ঢোল বাজিয়ে ১৫ হাজার ৩৪১ ভোট পেয়ে পরাজিত হলেও এবার দল থেকে মনোনয়ন দিলে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জাতীয় পার্টির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রিন্টু আনোয়ার।
২০ দলীয় জোট : অন্যদিকে এ আসনে বিএনপি-জামায়াতের নের্তৃত্বাধিন জোট থেকে কে প্রার্থী হচ্ছেন এনিয়ে মাঠ পর্যায়ে তেমন কোন আগ্রহ দেখা যাচ্ছেনা। তবে অনেকেই দলীয় গন্ডিতে থেকে নানা ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু, বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা: ফখরুদ্দীন মানিকের নাম শুনা যাচ্ছে।
এর আগে ফেনী-৩ আসনে ১২২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২১টি কেন্দ্রের ফলাফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী) হাজী রহিম উল্লাহ বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৬১৫ ভোট। তার নিকটতম অপর প্রার্থী আনোয়ারুল কবির ওরফে রিন্টু আনোয়ার পেয়েছে ১৫ হাজার ৩৪১ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩১ হাজার ২৪৪। ভোট পড়েছে ৭৩ হাজার ২৩৩। যা মোট ভোটের ২২ দশমিক ৪২ ভাগ। এ আসনের ২টি কেন্দ্রে একটিও ভোট পড়েনি।নির্বাচনে সহিংসতায় যুবদল ও ছাত্রদলের দুই নেতা নিহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছে ৫ জন। পুলিশসহ মোট আহত হয়েছে ২০ জন। ৩টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বক্স ছিনতাই হয়েছে।
মাঈন উদ্দিন পাটোয়ারী, সম্পাদক, ফেনীর কথা ডটকম
বিএ (অনার্স), মাস্টাস, এলএলবি (জাবি)

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo