ফেনী
বৃহস্পতিবার, ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ ইং, রাত ১:৫০
, ৯ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন হোন

এখন বৃষ্টির মৌসুম। ঋতু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টির ধারা জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ পক্ষেই শুরু হয়েছে। এ সময়টাতে রাজধানীবাসী উৎকণ্ঠায় থাকে। তারা একদিকে যেমন জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়ে, অন্যদিকে তেমনি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নামক দুটি রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কায় থাকে। গত কয়েক বছর যাবৎ এই সময় ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। এ দুটি রোগেরই বাহক এডিস মশা। এই মশা সাধারণত স্বচ্ছ, স্থির ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পানিতে বংশবিস্তার করে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই বৃষ্টির কারণে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার বাড়ে। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। ইতিমধ্যে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের খবর ছাপা হয়েছে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায়।

ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর। অন্যান্য ভাইরাসজনিত জ্বরের মতো ডেঙ্গুর সরাসরি প্রতিষেধক নেই, টিকাও নেই। লক্ষণ অনুযায়ী এর চিকিৎসা করা হয়। জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে ডেঙ্গুর প্রকোপ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব। বর্ষা মৌসুমে কোথাও যাতে স্বচ্ছ পানি না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে যথাসম্ভব দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছর জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকে। কিন্তু এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ গত কয়েক বছরের তুলনায় তীব্র মনে হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতিমধ্যে বিশেষ সভা আহ্বান করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। রাজধানীতে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই এবং এ রোগে আক্রান্তের চিকিৎসার সুব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাস জ্বর সাধারণত দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। তিন দিনের মধ্যে জ্বর ভালো না হলে তারা রোগীকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কিনা তা জানতে রক্ত পরীক্ষা করতে পরামর্শ দিচ্ছেন। রক্ত পরীক্ষায় অনেকেরই ডেঙ্গু জ্বর ধরা পড়ছে বলেও জানা গেছে। আমরা মনে করি, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ আমলে নেয়া এবং জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়েও প্রচারণা চালানো উচিত।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণত অল্পদিনেই সুস্থ হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিতভাবে অসুস্থতা বাড়তে থাকে এবং মৃত্যুও ঘটতে দেখা যায়। সাধারণত ভাইরাস জ্বরের যে লক্ষণ তার সবই ডেঙ্গু জ্বরে থাকে। ডেঙ্গু জ্বরের প্রাথমিক লক্ষণ হচ্ছে, সারা শরীরের মাংসপেশীতে, বিশেষ করে হাড়, কোমর, পিঠ ও অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। ব্যথা, জ্বর হওয়ার ৪ বা ৫ দিনের মধ্যে এলার্জি বা ঘামাচির মতো সারা শরীরে র‌্যাশ বা লালচে দানা দেখা যায়। এ জ্বর কম বা বেশি উভয়ই হতে পারে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে জ্বর ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধন জরুরি। কিন্তু রাজধানীতে মশা নিধনের প্রচলিত যেসব কার্যক্রম বর্তমানে আছে, তা কার্যকর বলে মনে হয় না। শুধু নর্দমায় মশা নিধনের ওষুধ ছিটিয়ে মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। ডেঙ্গুবাহিত মশার বিস্তার রোধ করতে হলে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিও অপসারণ করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনগুলোর ওষুধ ছিটানোর ক্ষেত্রে এ বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া উচিত। আমাদের পর্যবেক্ষণ হল, মশা নিয়ন্ত্রণের কাজটি রাজধানীতে সঠিকভাবে হয়নি। তাই দুই সিটি কর্পোরেশনকে জবাবদিহিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। আবার এও সত্য, বাসার ছাদে বা বেলকনিতে রাখা টবেও মশার জন্ম হতে পারে। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতাও জরুরি।

নজরুল ইসলাম লিখন : প্রাবন্ধিক
likhonalife@gmail.com

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo