ফেনী
বুধবার, ১২ই মে, ২০২১ ইং, রাত ২:০৫
, ২৮শে রমজান, ১৪৪২ হিজরী

স্বাস্থ্য ডিজিকে নিয়ে নানা বিতর্ক

স্বাস্থ্য অধিদফতরের নতুন মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের নিযুক্তির এক মাস পূর্ণ হচ্ছে আজ রোববার। গত ২৩ জুলাই প্রজ্ঞাপন জারির পর এবং পর দিন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদফতরে তার কাজের শুরু। এই এক মাসে তার নেয়া সবগুলো সিদ্ধান্ত বিক্ষুব্ধ করে তুলছে তার অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। আবার একই সাথে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকেও ব্যাহত করছে। গণমাধ্যম কর্মীদের কাজকে কঠিন করে তুলেছেন তিনি। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দুর্নীতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তার প্রথম বক্তব্য ছিল, ‘আমরা সবাই এই দুর্নীতির অংশ। দুর্নীতির দায় আমাদের সবার। আমরা যদি সরকারের দিকে আঙুল তুলি সেটা হবে সবচেয়ে বড় বোকামি।’ তার এই বক্তব্য চিকিৎসকসহ সুধী সমাজের কেউ পছন্দ করেননি।

এর আগে করোনাভাইরাস বিষয়ক বুলেটিনের মাধ্যমে দেশবাসীকে প্রতিদিনের অবস্থা জানানোর ব্যবস্থা ছিল। তিনি দায়িত্ব নেয়ার ২০ দিনের মাথায় করোনাভাইরাস বিষয়ক ওই বুলেটিন বন্ধ হয়ে যায়। দেশবাসী টেলিভিশন, ফেসবুক ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রতিদিনই বুলেটিনটি দেখতেন। যদিও ওই বুলেটিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে বন্ধ করা হয়, তবু তিনি কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি এই জনপ্রিয় অনুষ্ঠানটি অব্যাহত রাখার ব্যাপারে। প্রথমে এটিকে করোনা বিষয়ক ওয়েব সংবাদ সম্মেলন বলা হলেও পরে তা বুলেটিন হিসেবে প্রচার করা হয়। কারণ ওয়েব সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইতেন। সাংবাদিকরা যেন প্রশ্ন করতে না পারেন সে কারণে করোনার তথ্য প্রচারের ওই ব্রিফিংটিকে ‘করোনাবিষয়ক বুলেটিন’ হিসেবে প্রচার করা হয়।
নতুন মহাপরিচালক হিসেবে অধ্যাপক খুরশীদ আলম দায়িত্ব নেয়ার কিছু দিনের মধ্যেই স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে এ মর্মে নির্দেশ জারি করা হয়, ‘মহাপরিচালকের অনুমতি ছাড়া কেউ গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে পারবেন না’ ।

এ নির্দেশের কারণে কোনো সাংবাদিক স্বাস্থ্য অধিদফতরে এলে তাদের সাথে কেউ কথা বলতে পারছেন না। এত দিন মৌখিক এ নির্দেশনা থাকলেও গত শুক্রবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ নির্দেশটি জানিয়ে দেয়া হয়। এ নির্দেশের কারণে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোনো কর্মকর্তা মহাপরিচালকের অনুমতি ছাড়া টেলিভিশনের টকশোতেও অংশ নিতে পারবেন না। কথা বলতে পারবেন কেবল স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারাই। টকশোতে অংশগ্রহণ করতে না দেয়ার পেছনে যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, ‘বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা মুখপাত্র হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেন। নিয়মিত ব্রিফিং ছাড়া এসব অনুষ্ঠানের বক্তব্য ও মন্তব্যের কারণে অনেক সময় সরকারকে বিব্রত হতে হয়।’

দীর্ঘ দিন থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কনট্রোল রুমে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ডা: আয়েশা আক্তার। হঠাৎ করে গত শুক্রবার তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। একজন সহকারী পরিচালকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে মহাপরিচালকের মৌখিক নির্দেশে, এ ক্ষেত্রে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।

ডা: আয়েশা আক্তারকে বর্তমানে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের (এনসিডিসি) প্রোগ্রাম ম্যানেজার করা হয়েছে। তবে ডা: আয়েশা আক্তারকে কনট্রোল রুম থেকে সরিয়ে দেয়া হলেও সেখানে তার মতো কাউকে দেয়া হয়নি। কনট্রোল রুমে দায়িত্ব পালন করতে দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইরফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) কর্মমর্তাদের। ডা: আয়েশা আক্তার এর আগে রানা প্লাজা দুর্ঘটনা, ঘূর্ণিঝড় মহাসেন, ফণী, আইলা, আমফান, বনানী ও চকবাজারের অগ্নিকাণ্ড, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী সঙ্কট এবং সর্বশেষ দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকাণ্ড তুলে ধরেছেন। ডা: আয়েশা আক্তারকে সরিয়ে দেয়ায় গণমাধ্যম কর্মীরা বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

দেশের মানুষ আশা করেছিলেন, নতুন মহাপরিচালক দায়িত্ব নেয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের নানা ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হবেন এবং দুর্নীতি বন্ধ করবেন। কিন্তু তার প্রথম দিনের বক্তব্যেই মানুষ বেশ হতাশ হয়েছে।

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo