ফেনী
বুধবার, ১২ই মে, ২০২১ ইং, রাত ১:২৫
, ২৮শে রমজান, ১৪৪২ হিজরী

পূর্ব ভূমধ্যসাগর পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধান চায় আঙ্কারা

পূর্ব ভূমধ্যসাগর পরিস্থিতি নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ন্যাটো প্রধান জিন স্টোলটেনবার্গ। গত বুধবার ট্রাম্প ও শুক্রবার ন্যাটো প্রধানের সঙ্গে ফোনে কথা হয় তুর্কি প্রেসিডেন্টের। এ সময় তারা অঞ্চলটির সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করেন। ফোনালাপে তুর্কি প্রেসিডেন্ট ন্যাটো প্রধানকে জানান, আঙ্কারা পূর্ব ভূমধ্যসাগর পরিস্থিতির একটি সুষ্ঠু সমাধান চায়; যা সবার জন্যই লাভজনক হবে। তবে তার সরকার তুরস্কের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
এরদোগান বলেন, ন্যায্য আলোচনার মাধ্যমেই কেবল আঞ্চলিক শান্তি অর্জন সম্ভব। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে এবং আঞ্চলিক শান্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন একতরফা অবস্থান না নিয়ে ন্যাটোকে তার দায়িত্ব পালন করা উচিত। ন্যাটো প্রধানের সঙ্গে ফোনালাপের দুই দিন আগে বুধবার পূর্ব ভূমধ্যসাগর পরিস্থিতি নিয়ে এরদোগানের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন দুই নেতা। অন্য দিকে তুরস্কের ওপর ইইউর নিষেধাজ্ঞার হুমকির কঠোর জবাব দিয়েছেন তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওকতাই। তিনি সংস্থাটির এমন হুমকিকে ভণ্ডামি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেলের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার হুমকির জবাবে গতকাল শনিবার এ মন্তব্য করেন ওকতাই।
২০২০ সালের ২৪ আগস্ট এক ঘোষণায় তুরস্ক জানায়, ভূমধ্যসাগরের বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমায় তাদের গবেষণা জাহাজ অরুচ রেইসের অনুসন্ধানের সময় ২৭ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই অনুসন্ধানকে বেআইনি হিসেবে আখ্যায়িত করে গ্রিস। এর জেরে পাল্টাপাল্টি মহড়ার ঘোষণা দেয় তুরস্ক ও গ্রিস। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আঙ্কারা ও এথেন্স সফর করেন জার্মান পররাষ্ট্র্রমন্ত্রী হেইকো মাস। এর মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে এরদোগানের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প ও ন্যাটো প্রধান।
পশ্চিমা নেতাদের এরদোগান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্ক কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে না। তার দেশ জোরালোভাবে এটা প্রমাণ করেছে যে, তারা উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী। এ ইস্যুতে তুরস্ক সংলাপে বসতেও প্রস্তুত রয়েছে। ২৬ আগস্ট একাদশ শতকে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সেলজাক তুর্কিদের বিজয় স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানেও পূর্ব ভূমধ্যসাগরে গ্রিসের সঙ্গে বিরোধ নিয়ে কথা বলেন এরদোগান। এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে কোনো ছাড় দেবে না তুরস্ক। কৃষ্ণ সাগর, আজিয়ান সাগর ও ভূমধ্যসাগরে নিজেদের অধিকার বজায় রাখতে আঙ্কারা সম্ভাব্য সবকিছু করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্দেশে এরদোগান বলেন, ‘এসব বিষয়ে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিলে তা তাদের ধ্বংস ডেকে আনবে।’ তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা অন্য কারো অঞ্চল, সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থের দিকে নজর দিচ্ছি না। কিন্তু যেগুলো আমাদের সেগুলোতে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।’ গ্রিসকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ভুল এড়িয়ে চলুন, তাহলেই ধ্বংস এড়াতে পারবেন। যেগুলো আমাদের সেগুলো নিয়ে আমরা কোনো আপস করব না।’ অন্য দিকে গ্রিসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোস দেনদিয়াস বলেছেন, ‘আইনের অধীনে সার্বভৌমত্ব ও সার্বভৌম অধিকার রক্ষা করবে গ্রিস।’ তিনি বলেন, ‘গ্রিস নিজেদের জাতীয় এবং ইউরোপীয় সীমান্ত রক্ষা করবে। আমাদের অন্য কোনো উপায় নেই, তা করতেই হবে।’
এ দিকে, পূর্ব ভূমধ্যসাগর ইস্যুতে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর মধ্যে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেয়ার মতো পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের জ্বালানি অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই সদস্য দেশ গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে আঙ্কারার বিবাদের জেরে এমন হুমকি দিলো ইইউ।
বার্লিনে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ বিষয়ে কথা বলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল। তুর্কি-গ্রিস বিবাদে গ্রিসের প্রতি সমর্থন জানাতে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠক শেষে জোসেফ বোরেল বলেন, তুরস্ক যদি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে আনতে না পারে তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে উত্তেজনা নিরসনে ইইউ প্রথমে আঙ্কারাকে ‘সংলাপের একটি চরম সুযোগ’ দিতে চায়। বিদ্যমান সঙ্কটে ইইউর সদস্য দেশ গ্রিস ও সাইপ্রাসের প্রতি সংস্থাটির সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন জোসেফ বোরেল। একই সঙ্গে তুরস্কের অর্থনীতি ইউরোপীয় অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বলেও মনে করিয়ে দেন তিনি।

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo