ফেনী
বুধবার, ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৬:৩৬
, ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

জিল বাইডেন ও আইসক্রিমের কথা

নতুন বছর ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেবেন জো বাইডেন। গত শুক্রবার তিনি ৭৮ বছরে পা দিয়েছেন। রাজনৈতিক জীবন ৫০ বছরের। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তিনিই হচ্ছেন বয়স্কতম প্রেসিডেন্ট। আবার কম বয়সী সিনেটর হিসেবেও আছে তারই নাম। মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর নির্বাচিত হন। জীবনে অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে তিনি এ পর্যায়ে এসেছেন।

স্মৃতিকথায় তিনি লিখেছেন, ‘আমি ভাগ্য মানি- ভাগ্যের ওপর আমার অগাধ বিশ্বাস। আমার ব্যক্তিগত জীবন কখনই পরিকল্পনা অনুযায়ী চলেনি। কিন্তু যেটা চেয়েছি, সেটা কিভাবে যেন হয়ে গেছে- একটা অদৃশ্য হাত সেটি ঘটিয়ে দিয়েছে।’ জো বাইডেন বলেন, ‘বাবার একটি কথা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা। এটা আমি কখনো ভুলি না। বাবা বলতেন, কে তোমাকে কত বড় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো, সেটা বড় কথা নয়। কত দ্রুত তুমি উঠে দাঁড়াতে পারলে, মানুষ হিসেবে সেটিই হবে তোমার সাফল্যের পরিচয়।’ তিনি বলেন, ‘তাই আমি কখনো আশা ছাড়ি না। সব সময়ই আশা আছে- এটাই আমার বিশ্বাস।’

গত ফেব্রুয়ারিতেও তিনি ছিলেন হোয়াইট হাউজের দৌড়ে প্রায় একজন পরাজিত ব্যক্তি। প্রেসিডেন্ট পদের জন্য দলের পূর্ব বাছাই বা প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি জিততে পারবেন বলে মনে হয়নি। বিভিন্ন পর্যায়ের প্রাইমারিতে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাকে রীতিমতো বেগ পেতে হয়েছে। কিন্তু কী ভাগ্য! প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়াইয়ে হেরে গিয়েও লড়ে গেছেন বাইডেন। প্রতিটি পরাজয়ের পর উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তার সহকর্মী সিনেটর বব কেরি বিবিসিকে বলেন, ‘জো কখনো হাল ছাড়ে না। দরকার না হলেও তার কাজ সে করে যায়।’ অনেকের মতে, ‘বাইডেন প্রতিকূলতা কাটিয়ে টিকে থাকা এক ব্যক্তি।’ তারই ফল, আজ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অনেক আপনজনকে হারিয়ে দিশেহারা হয়েছেন। প্রথম স্ত্রী নেইলি ও শিশু সন্তান নওমি গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে বো বাইডেনও রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন, ২০১৬ নির্বাচনের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য দলীয় মনোনয়ন লড়াইয়ে তিনি যখন ব্যস্ত, ঠিক তখন ২০১৫ সালে বো’র মৃত্যুর শোক তাকে বড় মানসিক চাপে ফেলেছিল। সেটাও অতিক্রম করে রাজনৈতিক জীবন গড়ে তুলেছেন তিনি। আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিল না তার পরিবার। বাবা ছিলেন একজন গাড়ি বিক্রয়কর্মী। নিজের সম্পর্কে তিনি বলেন, সবচেয়ে দরিদ্র ব্যক্তি হিসেবে কংগ্রেসে প্রবেশ করেছিলাম। আবার সবচেয়ে দরিদ্র ব্যক্তি হিসেবে কংগ্রেস থেকে বিদায়ও নিয়েছি। ছাত্রজীবনে তার সাইটেশন পেপারে আরেকজনের লেখা হুবহু ব্যবহার করেছিলেন। এটি নিয়মবহির্ভূত তা তিনি জানতেন না। এটি ছিল তার জীবনের একটা ভুল। ওই লেখাচুরির কলঙ্ক তাকে অনেক দিন তাড়া করেছে।

১৯৮৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এ কারণেই তিনি হেরে যান। আবারো ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে তিনি ওবামার কাছে হেরে গিয়েছিলেন। তবে বারাক ওবামা তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে রানিং মেট করেন। ২০১৬ সালেও বাইডেন প্রার্থী হতে পারেননি। হিলারি ক্লিনটন হন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। অবশেষে ২০২০ সালে এসে অনেক বাধা ডিঙিয়ে সাফল্য ধরা দেয়। মনোনয়ন পেলেন এবং প্রেসিডেন্ট হলেন। জো বাইডেন ১৯৭৭ সালে স্কুলশিক্ষিকা জিল জ্যাকবসকে বিয়ে করেন। ইংরেজির এই শিক্ষক একজন ডক্টরেট। জো বাইডেন ১৯৬৫ সালে ডেলাওয়ার ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। আইসক্রিম তার খুব পছন্দ। তিনি বলেছেন, হোয়াইট হাউজে গিয়ে তিনি ও কমলা আইসক্রিম খেয়ে তাদের দু’জনেরই জন্মদিন পালন করবেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন, তিনিও বাইডেনের জন্য আইসক্রিম পাঠাবেন।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় প্রেস ক্লাব

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo