ফেনী
বুধবার, ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ভোর ৫:৩৭
, ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

করোনা সংক্রমণ কমাতে সচেতনতার বিকল্প নেই

করোনা ভাইরাস বা COVID-19 বর্তমানে এক আতঙ্কের নাম। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে চীনের উহান প্রদেশে প্রথম এই ভাইরাসের দেখা মিলে। প্রথম থেকেই এটি চীনে তান্ডব চালিয়েছিল। প্রথম দিকে এটি নিয়ে বিশ্ব বাসির খুব বেশি ভাবনা না দেখা দিলেও যখন ধীরে ধীরে একের পর এক দেশে করোনার কালো থাবা পরিলক্ষিত হতে থাকে তখনই বিশ্ব বাসির চিন্তার রেখা দ্বিগুণ প্রশস্ত হয়। এটি মরণব্যাধিতে রূপ ধারণ করে। সারা বিশ্বকে গ্রাস করে নেয় এই ভাইরাস। কেড়ে নেয় একের পর এক প্রাণ। প্রতিদিন হাজার হাজার প্রাণ ঝড়ে পড়তে শুরু করে। এ যেন রূপকথার গল্পের সেই অভিশপ্ত সময়। এই ভাইরাস কোথায় থেকে কিভাবে ছড়িয়ে পড়েছে শুরু হয় সেই রহস্য উদঘাটনের প্রচেষ্টা। তবে প্রথম থেকেই ধারণা করে হচ্ছে যে বাদুড় থেকেই এই ভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাসের লক্ষণ গুলো অনেকটাই শ্বাসতন্ত্রের অন্যানা অসুস্থতার মতো। এই ভাইরাস যখন কোন মানুষের শরীরকে সংক্রামিত করে তখন তার মধ্যে গলা ব্যথা, জ্বর, সর্দি, কাশি এসব লক্ষণ দেখা দেয়। ধীরে ধীরে এটি ফুসফুসকে সংক্রামিত করে এবং একটি পর্যায়ে আক্রান্ত ব্যক্তি মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে। তবে এটি বেশি ঝুঁকির সৃষ্টি করে বয়স্ক এবং আগে থেকে অসুস্থ মানুষের জন্য। যখন এটি ভয়াবহ আকার ধারণ করে তখন থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার কিছু নির্দেশনা দিতে থাকে। মাস্ক ব্যবহার করা, হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করা, একজন আর একজন থেকে দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা এসব নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছিল সংস্থাটি। যখন এটি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে তখন প্রায় সব দেশেই লকডাউন ঘোষণা করে। এর ফলে স্থবির হয়ে পড়ে সারাবিশ্ব। রাস্তাঘাট, দোকানপাট, অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সব কিছু বন্ধ হয়ে যায়। যেন জনমানবহীন এক পৃথিবী। তারপরেই শুরু হয় ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা। দীর্ঘ ১০মাসের চেষ্টার ফলে ফাইজারের তৈরি COVID-19 টিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। এই টিকা দেওয়ার কাজ ক্রমান্বয়ে অগ্রসর হতে থাকলে মানুষের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু সেই স্বস্তি অচিরেই শেষ হয়ে যায়।

টিকার আবিষ্কারের পর যখনই মানুষ আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার কথা ভাবতে থাকে ঠিক তখনই নেমে আসে অন্ধকার। আবারও বেড়ে যায় আক্রান্তের হার। বিগত কয়েকদিন ধরে শুধুমাত্র বাংলাদেশই প্রতিদিন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় হাজারের উপরে। গড়ে প্রতিদিন ১০জনের উপরে মৃত্যুকে বরণ করে নিচ্ছে। হটাৎ করেই বৃদ্ধি পায় এই সংক্রমণ। অতিরিক্ত রোগী নিয়ে ডাক্তারদের ও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ডাক্তারদের। প্রথম থেকেই হাসাপাতাল গুলোতে আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হলেও আইসিইউ সংকট ছিল। বিগত কয়েকদিন ধরে এই সংকট আরও বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। উদ্বিগ্ন অবস্থায় প্রহর গুনছে করোনা আক্রান্ত মানুষগুলো। পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবার অভাবে অসহায় হয়ে পড়ছে মানুষগুলো। আক্রান্ত রোগীর স্বজনদের মতে, “প্রতিটি মুহূর্ত ভয়ে কাটাতে হচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞান যেন আজ অসহায় হয়ে পড়ছে। ডাক্তারদের দায়িত্ব তারা কতটুকু পালন করছে সেটা যে আক্রান্ত সেই মানুষটা অনেক ভালো করে উপলব্ধি করতে পারছে”। আবার ডাক্তারদের মতে, “আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছি আক্রান্ত মানুষগুলোকে সুস্থ করে তোলার। তাদের মনোবলই পারে তাদেরকে তাড়াতাড়ি সুস্থ ও স্বাভাবিক করতে। পর্যাপ্ত আইসিইউ না থাকায় আমরাও অসহায় হয়ে পড়েছি। রোগীর জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করা আমাদের কাজ। যখন একটা রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তখন সেই মুহূর্তটা আমাদের জন্য ও বেদনাদায়ক হয়ে উঠে”। বর্তমানে সারাবিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১২কোটির ও বেশি এবং মৃতের সংখ্যা ২৬লক্ষের ও বেশি। সুস্থ হয়ে উঠেছে ৯কোটিরও বেশি। তন্মধ্যে শুধুমাত্র বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫লক্ষ ৬০হাজারেরও বেশি এবং মৃতের সংখ্যা ৮হাজারেরও বেশি। সুস্থ হয়ে উঠেছে ৫লক্ষ ১৪হাজার। তবে আরও দুই সপ্তাহ পর্যন্ত এই সংক্রমণের হার বাড়তে পারে বলে ধারণা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই পূর্বের ন্যায় আবারও সবাইকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তার পাশাপাশি প্রত্যেকটা রোগীকে যেন ভালোভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় সেই দিকে ও নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একমাত্র জনসচেতনতায় পারে এই ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি রোধ করতে। জনসাধারণের অসচেতনতার কারণেই এর ভয়াল থাবা কিছুতেই কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই এখনই সময় সবাইকে সচেতন হয়ে যত দ্রুত সম্ভব এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমিয়ে আনা।

ইসরাত জাহান
শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo