ফেনী
বুধবার, ১৬ই জুন, ২০২১ ইং, বিকাল ৪:৩০
, ৫ই জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম:
আবু ত্বহার সন্ধানের দাবীতে ফেনীতে মানববন্ধন ফেয়ার’র নির্বাহী পরিচালক হলেন শামীম মধুপুরে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে মেয়র স্বপন মিয়াজীর অনুদান প্রদান পরশুরামে ছাত্রলীগ নেতা সৈকতের বনজ বাগানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দৃর্বৃত্তরা বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট বালক-বালিকা অনুর্ধ্ব-১৭ শুরু  নিজাম হাজারীর সাথে ফেনী ডেভেলপমেন্ট কমিউনিটির সৌজন্য সাক্ষাত ফেনীতে রোটারী পদ্মা জোনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত বাদলের ওপর হামলা, কোম্পানীগঞ্জে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ঘোষণা পরশুরাম উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা দাগনভূঁইয়ায় সাংবাদিকের বাড়ীতে হামলা-দখল চেষ্টার ঘটনায় গ্রেফতার ২

কোমর মচকেছে হেফাজতের

সংগঠনের সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত নেতা আল্লামা মামুনুল হককে গ্রেফতারের পর অনেকটাই নুইয়ে পড়েছে হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনের এই গুরুত্বপূর্ণ যুগ্ম মহাসচিবকে গ্রেফতারের পর অনেকেই ঘাপটি মেরেছেন। মুখ খুলছেন না কেউই। সাহস পাচ্ছেন না প্রতিবাদ ও ক্ষোভ দেখাতেও। একের পর এক শীর্ষ নেতা আটকের ফলে অনেকটাই সঙ্গহীন হয়ে পড়েছেন আমিরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। মামুনুলকে আটকের পর সংগঠনের মধ্যম সারির কয়েকজন নেতার সঙ্গে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় বৈঠক করেছেন। ঢাকার কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার সঙ্গেও পরামর্শ করেছেন। কিন্তু এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না বাবুনগরী।
হেফাজতের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, প্রশাসন পরিকল্পনা করেই মামুনুল হককে সবশেষে গ্রেফতার করেছে। তার আগে সংগঠনের বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে আটক করা হয়েছে, যাতে হেফাজতের নেতৃত্বে সাময়িক শূন্যতা সৃষ্টি হয়। এখন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে হাইকমান্ড।

হেফাজতের মধ্যম সারির এক নেতা  জানান, মামুনুল হককে গ্রেফতারের পরপরই জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। হাটহাজারী মাদ্রাসায়ও আমিরে হেফাজত জুনায়েদ বাবুনগরী বৈঠক করেছেন। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। ফলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও ধোঁয়াশার মধ্যে আছে। সংগঠনের প্রচার সম্পাদক মাওলানা নোমান ফয়জী সময়ের আলোকে জানান, সরকারের দমন-পীড়ন সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠেছে। এখন শীর্ষ মুরব্বিরা আলাপ-আলোচনা করছেন। একদিকে রমজান, অন্যদিকে লকডাউন এসব মাথায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একজন শীর্ষ জানান, হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো মোকাবিলার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি আইনি প্যানেল তৈরি করা হয়েছে। আপাতত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মামলাগুলোকে সংগঠনের পক্ষ থেকে আইনিভাবে মোকাবিলা করা হবে।
সূত্র বলছে, নেতাদের ধারাবাহিক গ্রেফতার চললেও এই লকডাউনের মধ্যে রমজান মাসে কোনো জোরালো কর্মসূচি না দেওয়ার পক্ষে একমত অনেকেই। লকডাউন ও রমজানে মাঠে নেমেও সুবিধা করা যাবে না বলেই তাদের ধারণা। রাজপথের কর্মসূচিতে উল্টো হিতে-বিপরীত হতে পারে। সরকার ও প্রশাসনের তৎপরতা আরও পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে রাত সাড়ে ৮টায় হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী জানান, মামুনুল হককে আটকের পর হাটহাজারীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি ছিলেন না। এখনও কোনো সিদ্ধান্ত কিংবা কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়নি। শুনেছি আমিরে হেফাজত জুনায়েদ বাবুনগরী জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন, সে বিষয়ে পরিষ্কার করা যাচ্ছে না।
রোববার দুপুরে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেফতার করা হয়। তার একজন সহযোগী জানান, মামুনুল হক নিজেও জানতেন রোববার যেকোনো সময় তিনি গ্রেফতার হতে পারেন। এজন্য কিছুটা মানসিক প্রস্তুতিও ছিল তার। পুলিশের হাতে আটকের ঘণ্টাদুয়েক আগে ফেসবুকে তারই বন্ধু সাখাওয়াত হোসাইন রাজীকে নিয়ে লেখেন, প্রিয় বন্ধু এখন কারাগারে বন্দি। আমার সামনেও ঝুলছে গ্রেফতারের খড়গ। মামুনুল হককে নিয়ে তার সংগঠন হেফাজত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও খেলাফত মজলিস বাংলাদেশ তার মুক্তির দাবি করেছে। এই সংগঠনের মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হক। মামুনুল হকসহ আলেমদের গ্রেফতার ও রিমান্ডের দেওয়ার বিষয়টিকে নির্যাতন উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে খেলাফত মজলিসের আমির মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। তারা বলেন, আলেম-ওলামা ও দেশপ্রেমিক জনগণের ওপর হামলা, মামলা, হত্যা, গ্রেফতার নির্যাতন চালিয়ে সরকার তাদের পতনকেই ত্বরান্বিত করছে। জুনায়েদ আল হাবীব ও মামুনুল হকসহ গ্রেফতারদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

খেলাফতের শীর্ষ দুই নেতা বলেন, সরকার বিদেশিদের খুশি করার জন্য দেশের আলেম-ওলামাদের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাচ্ছে। মাদ্রাসা-মক্তব, ইসলামী সংগঠনের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আলেম-ওলামাদের গ্রেফতার করে সাজানো মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। দেশে এক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। রমজান মাসে করোনার নামে বিধিনিষেধ দিয়ে আলেম-ওলামাদের ওপর সরকারের এ দমন অভিযান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামুনুল হকের আটকের মধ্য দিয়ে কার্যত কোমর ভেঙে গেছে হেফাজতে ইসলামের। সরকারের সবশেষ টার্গেট ছিল আলোচিত মামুনুল হক। তাকে হারিয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে হেফাজত। কারণ সাম্প্রতিককালে সংগঠনের কর্মীদের নানাভাবে চাঙ্গা রেখেছেন মামুনুল হক। আর হেফাজতের আমির ও মহাসচিব ছাড়া প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে আটক করা হয়েছে।

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo