ফেনী
বুধবার, ১৬ই জুন, ২০২১ ইং, বিকাল ৪:৩৩
, ৫ই জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম:
আবু ত্বহার সন্ধানের দাবীতে ফেনীতে মানববন্ধন ফেয়ার’র নির্বাহী পরিচালক হলেন শামীম মধুপুরে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে মেয়র স্বপন মিয়াজীর অনুদান প্রদান পরশুরামে ছাত্রলীগ নেতা সৈকতের বনজ বাগানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দৃর্বৃত্তরা বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট বালক-বালিকা অনুর্ধ্ব-১৭ শুরু  নিজাম হাজারীর সাথে ফেনী ডেভেলপমেন্ট কমিউনিটির সৌজন্য সাক্ষাত ফেনীতে রোটারী পদ্মা জোনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত বাদলের ওপর হামলা, কোম্পানীগঞ্জে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ঘোষণা পরশুরাম উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা দাগনভূঁইয়ায় সাংবাদিকের বাড়ীতে হামলা-দখল চেষ্টার ঘটনায় গ্রেফতার ২

নিজাম হাজারীর সঙ্গে দূরত্ব ঘুচলো কাদের মির্জার!

ফেনীর আলোচিত সংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই মেয়র আবদুল কাদের মির্জার দূরত্ব এখন আর নেই। গত ২৩ মে (শনিবার) মির্জা কাদের তার ভাই ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ঢাকায় সাক্ষাৎ করতে আসেন। সেদিন ওবায়দুল কাদের নিজের মোবাইল ফোন থেকে কাদের মির্জাকে নিজাম হাজারীর সঙ্গে কথা বলিয়ে তাদের মধ্যে দূরত্ব মিটিয়ে দেন বলে জানা গেছে। ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে কাদের মির্জা ও নিজাম হাজারী প্রায় চার মিনিট কথা বলেন। এ সময় নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি আর থাকবে না বলে উল্লেখ করেন তারা।

পরে ফেনীর দাগনভুঁইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতনের সঙ্গেও মির্জা কাদেরকে কথা বলিয়ে দেন ওবায়দুল কাদের। ওই তিন নেতাকে সরাসরি বৈঠকে বসারও নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। ফেনী বা ঢাকায় সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও নোয়াখালীর একাধিক নেতা জানান, মির্জা কাদেরের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতে ফেনী সদর আসনের সাংসদ নিজাম হাজারী আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দ্বারস্থ হন। এরই অংশ হিসেবে মির্জা কাদেরকে ‘বশে আনতে’ ঈদ-উল ফিতরের দুদিন আগে তার বসুরহাটের বাড়িতে নিজাম হাজারীর পক্ষ থেকে একটি গাড়িতে করে চালকসহ নিজের দুজন লোকের মাধ্যমে ‘ঈদ সালামি’ পাঠান। এর দুদিন পর ঈদের দিন বড় ভাই ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তার দূরত্ব মিটে গেছে বলে ইতোমধ্যে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মির্জা কাদের। তবে তিনি প্রশ্নের জবাবে নিজাম হাজারীর টাকা পাঠানোর গুঞ্জন মিথ্যা দাবি করে বলেছেন, এটি তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার।

নিজাম হাজারীর টাকা পাঠানোর গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘এই তথ্য আপনাকে কে দিয়েছে। এটা সত্য নয়। এ ধরণের অনেক অপপ্রচার শুনবেন। কিন্তু সত্যি নয়, কোনওটাই।’

নিজাম হাজারীর সঙ্গে ভাই ওবায়দুল কাদেরের মোবাইল ফোনে কথোপকথনের বিষয়টিও অস্বীকার করছেন কাদের মির্জা। তবে দাগনভুঁইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ২৩ মে শনিবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ভাইয়ের মোবাইল ফোন থেকে আবদুল কাদের মির্জার সঙ্গে কথা হয়। ভুল বোঝাবুঝি আর থাকবে না। উভয়ে মিলেমিশে রাজনীতি করবো এমন কথা হয়।’

চেয়ারম্যান রতন আরও বলেন, ‘আমাদের সদর আসনের সংসদ সদস্য নিজাম সাহেবের সঙ্গেও কথা হয়েছে মির্জা কাদেরের। তবে কতটুকু কথা হয়েছে জানি না’। তিনি বলেন, ‘ওই দিন মন্ত্রী মহোদয় আমাদের কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামীতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা রাজনীতি করবো।’

গত বছরের শেষদিকে ‘সত্যবচন’ এর নামে মির্জা কাদের আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও সংসদ সদস্যদের ‘দুর্নীতি-অপরাজনীতি’র কড়া সমালোচনা করে দেশজুড়ে আলোচনায় উঠে আসেন। ‘দুর্নীতি-অপরাজনীতি, নিয়োগ বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি’র অভিযোগ তোলেন আপন বড় ভাই ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধেও। বাদ যাননি ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রীও। বিশেষ করে ফেনী সদর আসনের সংসদ সদস্য নিজামউদ্দিন হাজারী ও নোয়াখালীর সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা ছিল মির্জা কাদেরের নিত্যদিনের কাজ। তার সমালোচনার আতঙ্কে থাকতেন বেশিরভাগ দলীয় নেতা।

‘দুর্নীতি ও অপরাজনীতি’র বিরুদ্ধে তার সত্যবচন কেউ থামাতে পারবে না বলে একাধিকবার উল্লেখ করেছেন মির্জা কাদের। এক পর্যায়ে দলকেই বিতর্কের মুখে ঠেলে দেন মির্জা কাদের। বিভিন্নভাবে থামানোর চেষ্টা করা হলেও থামেননি মির্জা কাদের। দফায় দফায় বৈঠকও হয় তার ইস্যু নিয়ে। এর আগে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন মির্জা কাদের। সর্বশেষ চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব পেয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনও বৈঠক করেন মির্জা কাদেরের সঙ্গে। বৈঠক করেন নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গেও।

বড় ভাই ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে ওই দিন পৃথক পৃথক ভাবে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া দেন মির্জা কাদের। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বড় ভাই ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে যে দূরত্ব ছিল তা রমজানের ঈদের দিনই মিটে গেছে। একইদিন টেলিফোনে মির্জা কাদের বলেন, ‘আজকে বড় ভাই ওবায়দুল কাদেরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছি। তিনি কোম্পানিগঞ্জে শান্তি স্থাপনের জন্য আমাকে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী কাজ করবো।’

কাদের মির্জা আরও বলেন, ‘আমাদের যে দূরত্ব ছিল, তা ঈদের দিনই শেষ হয়ে গেছে। তিনি (ওবায়দুল কাদের) লোক মারফত আমাকে ফোন করতে বলেছেন, ফলে দুজনের কথা হয়। আজকে সৌজন্য সাক্ষাৎ’। মির্জা কাদের বলেন, সৌজন্য সাক্ষাতে ওবায়দুল কাদের আমাকে বলেন ‘তুমি অনেক কথাই বলেছো, আমি কোনও পাল্টা বক্তব্য দেইনি। কারণ আমি জানি তুমি একদিন ঠিকই বুঝবে। (সুত্র-বাংলা ট্রিবিউন)

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo