ফেনী
শুক্রবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:১৪
, ১৭ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

ষড়যন্ত্রকরে সহকর্মীর বেতন ভাতা বন্ধ

কাজিরবাগ হাজী দোস্ত মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শোকজ 

বিধি বহির্ভূতভাবে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে rসহকর্মীর বেতন ভাতা বন্ধ রাখায় ফেনী সদরের কাজিরবাগ হাজী দোস্ত মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার দত্তকে’ শো- কজ’ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। সম্প্রতি উক্ত অধিদপ্তরের শিক্ষা কর্মকর্তা ( মাধ্য-২) মোঃ তরিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছেছে ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উক্ত বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন এর সাথে প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার দত্তের বিদ্যালয় কেন্দ্রীক দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। এরমধ্যে রয়েছে অনিয়ম-দূর্নীতির প্রতিবাদ, বৈষম্যমূলক- পক্ষপাতমূলক আচরণ, বিদ্যালয়টিতে দু’ টি গ্রুপ করে আর্শীবাদপুষ্টদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে অন্যদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা,বিভিন্ন উছিলায় প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন কর্মস্হলে অনুপস্থিত থেকেও গতিবিধি রেজিস্ট্রারে তা লিপিবদ্ধ না করে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ফেলা,তার অনুপস্থিতিতে তার আর্শীবাদপুষ্টদের দারা অন্যদের উপর খবরদারি ও বিদ্যালয়ের পাঠদানে ব্যাঘাত,কোচিং ক্লাশের টাকা বন্টনে অনিয়ম,ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে ফরম বাবদ পাঁচশত টাকার স্হলে দুই হাজার টাকা আদায় ইত্যাদি। ১৭ মার্চ’১৭ ইং ছিল বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন।এছাড়াও শিক্ষক প্রতিনিধি প্রার্থী ( টি আর) সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ মোশাররফ হোছাইনকে চাপ প্রয়োগ করেও প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে না পেরে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন প্রধান শিক্ষক । তাই পরের দিন ১৮ মার্চ’১৭ইং এর একটি ঘটনা সাজিয়ে ১৯ মার্চ’১৭ইং তাকে সাময়িক বহিষ্কার ও একই চিঠিতে কারণ দর্শাও নোটিশ প্রদান করে। কারণ দর্শানোর নোটিশের উত্তর সন্তোষজনক ভাবে দিলেও তা নিষ্পত্তি না করে ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে তা কুমিল্লা বোর্ডে পাঠায়। আপীল এন্ড আরবিট্রেশন বোর্ড বিচার -বিশ্লেষন করে সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন এর বিরুদ্ধে আনিত বরখাস্তের আবেদন অবৈধ ঘোষণা করে তাকে স্বপদে বহাল করে। রায় মতে ২৬ নভেম্বর’১৭ ইং রাতে সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ মোশাররফ হোছাইনকে ফোন করে ও স্বপদে বহালের কথা বলে ২৭ নভেম্বর’ ১৭ ইং ডেকে নিয়ে বিদ্যালয়ের ৩ য় তলায় একটি কক্ষে আটক করে লান্চিত করে ও পূর্ব থেকে কম্পোজ করা পদত্যাগ পত্রে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করে। তাৎক্ষনিক ঘটনাটি জেলা শিক্ষা অফিসার,চেয়ারম্যান কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড,জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার ফেনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিহিত করে ঐ শিক্ষক আদালতে মামলা করে। ডিবি তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার দত্তসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয় ( সিআর ২৬৫/১৮)। অপর দিকে জোর করে নেয়া পদত্যাগপত্র অবৈধ ঘোষনার দাবিতে আরও একটি মামলা হয় ( দেং ১৫৩/১৮) । মামলা তুলে না নিলে প্রাণ নাশের ও মিথ্যা মামলা দায়েরের হুমকি দিলে বিষয়টি জানিয়ে ভিকটিম মুহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন ফেনী মডেল থানায় জিড়ি করে ( নং ৩৩৭,তাং০৬/০৯/১৮ইং)। মামলাকালীন খোরপোষ ভাতা পাওয়ার বিধান থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে ১৯ মার্চ’১৭ ইং থেকে অদ্যবধি বেতন ভাতা না দেওয়ায় দু’টি অবুঝ শিশু সন্তানসহ পরিবার পরিজন নিয়ে সহকর্মী এ শিক্ষক মানবেতর জীবন যাপন করছে।
অন্য দিকে ঘটনার প্রায় দু’ বছর পর প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে মিমাংসিত একই বিষয়কে অপব্যাখ্যা করে বিভিন্ন কল্পকাহিনী সাজিয়ে নারী ও শিশু আদালতে ঐ সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৫/১০/১৮ ইং কমপ্লেইন মামলা করলে পিবি আই তদন্তে তা মিথ্যা প্রমানিত হয়। একজন সহকর্মী শিক্ষকের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র ও হয়রানীর বিষয়টি অবগত হয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর , ঢাকা দীর্ঘদিন তদন্ত করে ও ঘটনার সত্যতা পেয়ে প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার দত্তকে সমপ্রতি ‘শো – কজ ‘ করে পত্র প্রাপ্তির দশ কর্ম দিবসের মধ্যে জবাব দানের নির্দেশ প্রদান করে। শো- কজ নোটিশে তদন্ত প্রতিবেদনের অংশ তুলে ধরে বলা হয় “কাজির বাগ হাজী দোস্ত মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন ( ইনডেক্স নং- ১০৬২৪৬৮ ) এর বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত প্রতিবেদন মতামতে উল্লেখ করেন যে,সার্বিক দিক বিবেচনায় দেখা যায় যে,উল্লেখিত বিষয়টি কে কেন্দ্র করে ২টি ফৌজদারি ও ১ টি দেওয়ানী মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এমনকি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এর বেসরকারি মাধ্যমিক  -১৩৭.০০.০০০০.০৭২..৩১.০০৭.১৫.৬৯৪; তারিখ ঃ ০৬/০১/২০১৭ খ্রি. সংখ্যক স্মারকে ৬০ দিনের বেশি কোন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত রাখা হলে তিনি বেতন ও অন্যান্য ভাতাসমুহ প্রাপ্য হবেন মর্মে নির্দেশনা রয়েছে। বাদীকে সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে কোন খোরপোষ ভাতাও প্রদান করা হয়নি। আইনগত প্রক্রিয়া অনুস্মরণ না করে বিধি বহির্ভুতভাবে বাদীর বন্ধ রাখা বেতন- ভাতা প্রদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন করা যেতে পারে”। এর প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার দত্তকে শো- কজ করা হয়।

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo