ফেনী
বুধবার, ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৬:৪৭
, ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

ফেনীতে স্বর্ণ ডাকাতি

ওসি সাইফুলের নেতৃত্বে অপরাধ সিন্ডিকেট!

সাইফুল ইসলাম ভুঁইয়া ফেনী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি পদে যোগদান করেই কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়েই একটি শক্তিশালী অপরাধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। চেক পোস্টে তল্লাশী ও বিভিন্ন অযুহাতে নিরীহ মানুষকে আটক করে ইয়াবা দিয়ে চালান ও ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে এ সিন্ডিকেট।পরে ওই অর্থ অপরাধ সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নিতেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের ৯ মে ফেনী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি হিসেবে যোগদান করেন সাইফুল ইসলাম ভুইয়া। এর আগে তিনি ফেনী কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ হিসেবে এক বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে ফেনী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।ফেনী থানা থেকে ডিবিতে বদলি হয়ে প্রায় ৮ মাস ধরে কাজ করে আসছিলেন এসআই নুরুল হক।অপর এসআই মোতাহের হোসেন ও মিজানুর রহমান কুমিল্লা থেকে বদলি হয়ে ফেনীর ডিবেতে প্রায় বছরখানেক ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এএসআই অভিজিৎ রায় কক্সবাজার ও এএসআই মাসুদ রানা চট্রগ্রাম থেকে ফেনী গোয়েন্দা পুলিশে যোগদান করেই গত মাস ধরে কাজ করে আসছিলেন।

ডিবি ওসি সাইফুল কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার বাতিসা ইউনিয়নের লুদিয়ারা গ্রাম ও এসআই নুরুল হক নোয়াখালির কোম্পানীগঞ্জের বাসিন্দা হওয়া এবং এসআই মোতাহের হোসেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ হওয়ায় ফেনীতে তারা দাফটের সাথে কাজ করতেন।ডিবি ওসি পদে আসিন হয়েই ওসি বেপরোয়া হয়ে উঠেন।তিনি এ দুই এসআই ও অপর এসআই মিজানুর রহমান, এএসআই অভিজিৎ রায় ও এএসআই মাসুদ রানাকে নিয়ে একটি শক্তিশালি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন।

১৫ জুলাই রাতে ফেনীতে শাহ জালাল নামে এক গরু ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় ওয়ার্ড আ’ লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর আবুল কালামকে প্রধান করে পরদিন ৩ জনের নামে মামলা দায়ের করেন তার চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন।

এ মামলার প্রধান আসামি কালামকে গ্রেফতারের জন্য ওই সিন্ডিকেট সদস্যদের পাঠিয়ে অভিযানের নামে কালামের ঘনিস্টজনকে আটক করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠে ওসি সাইফুলের বিরুদ্বে।জয়নাল আবেদিন নামে এক ভুক্তভোগিকে ঈদের আগে আটক করে ১৫ লক্ষ টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় ডিবি পুলিশ।

আব্দুর রহিম নামে এক ব্যবসায়ী জুন মাসের  শেষের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ফতেহপুর রেলক্রসিং এলাকা দিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। রাত ৭ টার দিকে অজ্ঞাতনামা তিনজন ওই স্থানে তার গতিরোধ করে তারা নিজেদের ফেনী জেলা ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দেন।এসময় তাকে একটি দোকানে নিয়ে তল্লাশি করেন। তবে তার কাছ থেকে কিছু উদ্ধার করতে পারেনি।এসময় তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে ডিবির সদস্যরা নিজেদের কাছ থাকা ইয়াবা বের করে অভিযোগ করেন, এগুলো রহিমের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।

ওই সময় ডিবির সদস্যরা তাকে জানান, যে যদি ফাঁসতে না চাও , তাহলে দ্রুত ৫ লাখ টাকা জোগাড় কর। না হলে মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে মামলায় ফাঁসিয়ে দেব।পরে তিনি ৩ লাখ টাকা জোগাড় করে দিয়ে ছাড়া পান বলে জানিয়েছেন।

এছাড়া এসআই নুরুল হকের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।কয়েকজন  বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবসায়ীদেরকে জিম্মি করে চাঁদা আদায় করতেন তিনি।

এদিকে ২০১২ সালে ফেনী মডেল থানার সামনে পুলিশের স্থাপনা ভাঙ্গার সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের উপর হামলা করেন ওসি সাইফুল ইসলাম ভুইয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন কয়েকজন পুলিশ সদস্য।

প্রসংগতঃ চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীকে ফেনীতে আটক করে ২০টি স্বর্ণের বার ডাকাতি ও লুন্ঠন করার অভিযোগে করা মামলায় রিমান্ডে আছেন ফেনী গোয়েন্দা পুলিশের বরখাস্তকৃত ওসি সাইফুলসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তা। এর আগে গত বুধবার দুপুরে শুনানী শেষে গ্রেফতারকৃত ডিবি ওসি সাইফুল ইসলামকে ৪ দিন ও এসআই মোতাহের হোসেন ,এসআই মিজানুর রহমান , এসআই নুরুল হক এবং এএসআই অভিজিৎ রায় ও এএসআই মাসুদ রানাকে ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ খান।এ মামলায় তাদেরকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।

এ ব্যপারে পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী জানিয়েছেন, এসব বিষয়ে অভিযোগ আসলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo