ফেনী
বুধবার, ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৬:৪৩
, ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

স্বর্ণের বার ছিনতাইয়ের স্বীকারোক্তি ডিবির

ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাস বলেন, গাড়িটি থামার পর তারা চোখ খুলে দিলে গাড়ি থেকে নেমে জায়গাটি বারৈয়ারহাট বলে দেখতে পাই। ওই সময় তারা আবারও আগের মতো জোর করে স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ধারণ করে। সবশেষে রাত প্রায় সোয়া ৮টার দিকে আমার গাড়িতে চালক শওকতকেসহ তুলে দিয়ে সোজা বাড়ি ফিরে যেতে বলে। ওই সময় তারা বলে, ‘এখানে যা হয়েছে সব ভুলে যাও’। এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় তারা। পরবর্তী সময়ে তিনি গাড়ি নিয়ে সোজা চট্টগ্রামে নিজ বাসায় ফিরে যান।

চট্টগ্রাম ফিরে স্বজন ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পরামর্শ : ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জিডিতে উল্লেখ করেন, ভয়ভীতি দেখানোর পর রাতেই তিনি বাড়িতে ফিরে ঘটনাটি তার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে জানান। পরে সবার পরামর্শে মঙ্গলবার ফেনী মডেল থানায় হাজির হয়ে বিষয়টি থানার ওসিকে মৌখিকভাবে জানান। তখন ওসি বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এক পর্যায়ে ওইদিন দুপুর ১টা ২০ মিনিটে পুলিশ লাইনে কর্মরত ডিবির কর্মকর্তাদের জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় হাজির করলে ডিবির ওসি মো. সাইফুল ইসলাম, এসআই মোতাহের হোসেন, এসআই নুরুল হক ও এএসআই মাসুদ রানাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন তিনি। তাদের রোববারের ঘটনা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা স্বর্ণের বার ছিনিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করে এবং বারগুলো ওসি ডিবির বাসায় রয়েছে বলে জানায়।

যেভাবে বার ছিনতাইয়ের স্বীকারোক্তি : জিজ্ঞাসাবাদে ওসি ডিবি সাইফুল ইসলাম পুলিশকে জানায়, তার নির্দেশে এসআই মোতাহের, এসআই নুরুল হকের দুটি টিম ঘটনাস্থলে গেলেও স্বর্ণের বার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা তারা চারজনসহ এসআই মিজানুর রহমান ও এএসআই অভিজিৎ বড়ুয়া জানত এবং অন্যরা জানত না। পরবর্তী সময়ে থানার ওসির নেতৃত্বে একটি টিম ওসি ডিবির বাসায় গেলে তার বেডরুমে থাকা একটি কাঠের আলমারি থেকে কালো ব্যাগে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ১৫টি বার উদ্ধার করে। ১৫টি বারের মধ্যে পাঁচটির প্রত্যেকটি ১১৬.৫৬ গ্রাম করে মোট ৫৮২.৮০ গ্রাম এবং বাকি ১০টির প্রত্যেকটি ১৬৫.৯৭ গ্রাম করে মোট ১৬৫৯.৭০ গ্রাম। অর্থাৎ ১৫টি বারের মোট ওজন ২২৪২.৫০ গ্রাম (২ কেজি ২৪২ গ্রাম) এবং এর বাজারমূল্য ১ কোটি ২৩ লাখ ৪ হাজার ৫৯৭ টাকা। ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে পুলিশ জব্দকৃত স্বর্ণের বারগুলো তাদের হেফাজতে নেয়। বাকি পাঁচটি বার পাওয়া যায়নি।

সেদিনের ঘটনায় ব্যবসায়ী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত : অন্যদিকে গতকাল ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি  জানান, রোববারের ঘটনায় তিনি অসুস্থ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। বর্তমানে চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। পুলিশ তাকে সহযোগিতা করছে। বর্তমানে তিনি কোনো শঙ্কার মধ্যে নেই বলে জানান। ওই ব্যবসায়ী বলেন, সেদিনের ঘটনায় আমি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। তবে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশাবাদী।

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo