ফেনী
বুধবার, ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ভোর ৫:৫৩
, ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

মামলা পিবিআইতে স্থানান্তর

ফেনীতে ডাকাতির ঘটনায় উদ্ধারকৃত স্বর্ণ নিয়ে সংশয়

চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীকে ফেনীতে আটক করে ২০টি স্বর্ণের বার ডাকাতি ও লুন্ঠন করার অভিযোগে দায়ের করা মামলা ক্রমান্বয়ে নতুন মোড় নিতে শুরু করেছে।বাদী দাবি করেছেন, উদ্ধারকরা ১৫ টি স্বর্ণের বারের মধ্যে দেড় কেজি স্বর্ণ তার নয়। ফলে এত স্বর্ণ কোথায় থেকে এলো এ নিয়ে পুলিশের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় গত শনিবার চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ফেনী সফর করেছেন। তিনি এ ঘটনাকে চাঞ্চল্যকর বলেছেন। আসামিদের কাছ থেকে রিমান্ডে কিছু ভিন্ন রকমের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। স্বর্ণ আত্মসাৎ ও উদ্ধারের নেপথ্যে আরও কোনো ব্যক্তি, চক্র কিংবা রহস্য লুকিয়ে রয়েছে কিনা সে ব্যাপারে অধিকতর তদন্ত শুরু করার কথা বলেছেন ডিআইজি।

এদিকে মামলাটি ফেনী মডেল থানা পুলিশ থেকে পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী।

পুলিশ সুত্র জানায়, মামলার বাদী গোপাল কান্তি দাস এজাহারে বলেন, তিনি মোট ২০টি স্বর্ণের বার নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে গত মঙ্গলবার রাতে তার উপস্থিতিতে তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী থানার ওসি (তদন্ত) মনির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আসামি ওসি ডিবি সাইফুল ইসলামের বাসার আলমারি থেকে কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে। বাদী উপস্থিত থেকে স্বর্ণ শনাক্ত করেন। শনাক্ত করা বারের মধ্যে পাঁচটির গায়ে ভালকামবি সুইসে টেন টোলাস ৯৯৯.০ লেখা রয়েছে, এর ওজন প্রায় ৫৮৩ গ্রাম। বাকি ১০টি বারের প্রতিটির ওজন ১৬৫.৯৭ গ্রাম এবং এর গায়ে মিয়ানমার লেখা রয়েছে। এই ১০টি বারের মোট ওজন এক কেজি ৬৫৯.৭০ গ্রাম।

তবে মামলার তদন্ত শুরু করার পর বাদীর বক্তব্যে তদন্ত কর্মকর্তার মনে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। বাদী তদন্ত কর্মকর্তা মনির হোসেনের কাছে দাবি করেন, উদ্ধার করা ১০টি বারের এক কেজি ৬৫৯.৭০ গ্রাম স্বর্ণ তার নয়। তাহলে কোথা থেকে এলো এই বিপুল স্বর্ণ? বাদীর স্বর্ণের বারগুলোই বা কোথায় গেল।এ মামলায় নতুন করে জটিলতা শুরু হলে স্বর্ণ আত্মসাৎ মামলা তদন্ত কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করতে শনিবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে ফেনী আসেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন। এ সময় তিনি মামলার সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ডিআইজি সাংবাদিকদের বলেন, বাদীর বক্তব্য অনুসারে ফেনী পুলিশ আসামি শনাক্ত করেছে ও মালপত্র উদ্ধার করেছে। এখন বাদীর ভিন্ন বক্তব্য এলে তাও তদন্ত করে দেখা হবে। এরই মধ্যে তদন্ত দল চট্টগ্রাম সফর করছে।

এ ঘটনায় ব্যপক জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য গ্রেফতারকৃত ডিবির এসআই মোতাহের হোসেন ,এসআই মিজানুর রহমান , এসআই নুরুল হক এবং এএসআই অভিজিৎ রায় ও এএসআই মাসুদ রানাকে ৩ দিন করে রিমান্ড দিয়েছে আদালত। শনিবার দুপুরে তাদেরকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক মনির হোসেন। শুনানী শেষে ফেনীর সিনিয়র সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান এ আদেশ দেন।

এর আগে গত বুধবার দুপুরে শুনানী শেষে গ্রেফতারকৃত ডিবি ওসি সাইফুল ইসলামকে ৪ দিন ও এসআই মোতাহের হোসেন ,এসআই মিজানুর রহমান , এসআই নুরুল হক এবং এএসআই অভিজিৎ রায় ও এএসআই মাসুদ রানাকে ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ খান।এ মামলায় তাদেরকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo