ফেনী
বুধবার, ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৭:২৭
, ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রীর যাবজ্জীবন

ফেনীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কায়সার মাহমুদ হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি নিহতের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার নাদিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।এছাড়া ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনী জেলা ও দায়রা জজ ড. জেবুন্নেছা এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পর মামলার বাদী কায়সারের পিতা আবুল খায়ের বলেন, আমরা ন্যায় বিচার পাইনি। এ মামলায় ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল। আমরা সুবিচারের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফেজ আহম্মদ বলেন, কায়সার হত্যা মামলায় শাহনাজ নাদিয়া জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।  আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

আসামীপক্ষের আইনজীবী আহসান কবির বেঙ্গল জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নির্ভর করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা যথাযথ ন্যায় বিচার পাইনি।অচিরেই উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর যুক্তিতর্ক শেষে বৃহস্পতিবার এ রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত। গত ১৫ সেপ্টেম্বর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

এর আগে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এ মামলার দ্বিতীয় তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. কামরুল ইসলাম খান ও মরদেহ বহনকারী কনস্টেবল আবদুল মতিনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এ মামলার বাদী প্রফেসর আবুল খায়ের, ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ  হয়। এ হত্যা মামলায় ২৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী আলতাফ হোসেন বলেন, ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শহরের রামপুর ভূইয়া বাড়ির নজির সওদাগর বাড়ির প্রফেসর আবুল খায়েরের ছেলে কায়সার মাহমুদের সাথে আনন্দপুর ইউনিয়নের বন্দুয়া দৌলতপুর গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে শাহনাজ নাদিয়ার সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েকমাস পর তাদের মধ্যে মনমালিন্য দেখা দেয়। ২০১৪ সালের ২৫ মার্চ শাহনাজ নাদিয়া কুমিল্লা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন লতিফ টাওয়ারে তার বাবার বাসায় বেড়াতে যান। সেখান থেকে ১১ এপ্রিল বিকেলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর জন্য কায়সারদের বাসায় আসেন। কাওসারসহ নাদিয়া ডাক্তার দেখানোর জন্য বাসা থেকে বের হন। পরে আর কাওসারের বাসায় ফিরেনি।

সেইদিন রাতে ফালাহিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন কবরস্থানের পাশে রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুর্বৃত্তরা কাওসারকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। তখন তার সঙ্গে স্ত্রী নাদিয়াও ছিলেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে ১২ এপ্রিল দুপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ওই রাতেই তার বাবা প্রফেসর আবুল খায়ের বাদী হয়ে শাহনাজ নাদিয়া ও তাদের বাড়ির মো. হারুনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আলমগীর হোসেন বাসা থেকে শাহনাজ নাদিয়াকে গ্রেফতার করে ১৩ এপ্রিল বিকেলে আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি নেন। নাদিয়া ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে কায়সারকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি কায়সারকে একাই হত্যা করেছেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আলমগীর হোসেন চাঁদপুর বদলি হওয়াতে ২০১৪ সালের ০৭ জুন তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই কামরুল ইসলামকে।

এ মামলার অপর আসামি বন্দুয়া দৌলতপুর গ্রামের মৃত মো. হাফেজের ছেলে মো. হারুন একই বছর আগস্ট মাসে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা  নাদিয়াকে অভিযুক্ত করে ২০১৫ সালের ৩০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেন। বাদী প্রফেসর আবুল খায়ের আদালতে আপত্তি জানালে পুনঃতদন্ত করার নির্দেশ দেন আদালত। পরে নাদিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে  অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কামরুল ইসলাম।

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo