ফেনী
শুক্রবার, ১৯শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:২২
, ২০শে মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি
শিরোনাম:

রিভিশন মঞ্জুর আদালতের

ফেনীর আলোচিত ইয়াসিন হত্যা মামলা পুনঃ তদন্ত হচ্ছে

ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের আলোকদিয়ার আলোচিত ইয়াসিন হত্যা মামলার রিভিশন মঞ্জুর করে ফের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ মোঃ কায়সার মোশাররফ ইউসুফ এ আদেশ দেন। এসময় আদালতে মামলার বাদীনি হাজেরা বেগমের পক্ষে শুনানি করেন এডভোকেট ফয়েজুল হক মিল্কি।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি ফেনীর আলোকদিয়া হতে ইয়াসিনের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে কালো রঙের ছুরির কাভার, দুটি সিমযুক্ত মোবাইল ফোন, ১৫টি চাবি, একটি মানিব্যাগ, মানিব্যাগের ভেতর দুটি সিম ও ছয়টি মোবাইল নাম্বার লেখা টুকরো কাগজসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করে পুলিশ।তার মাথা ও পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। ঘটনার পরদিন ইয়াসিনের মাতা হাজেরা বেগম ফেনী জেনারেল হাসপাতালে এসে ছেলের লাশ শনাক্ত করেন। ইয়াসিন খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় থানার মধ্যম লামকুপাড়ার মৃত আলী আহাম্মদের ছেলে।

ফেনী মডেল থানার এসআই সুমন চন্দ্র নাথ এ মামলায় সাক্ষী গিয়াস উদ্দিন, নাসির উদ্দিন, মো. রফিক, মো. আবুল হোসেন, ফাতেমা আক্তার বানু, হাসান ইকবাল শাহিন, আবু বকর সিদ্দীককে মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের দেওয়া জবানবন্দি ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করেন।পরে মো. রফিক, আবুল হোসেন, ফাতেমা আক্তার বানু, হাসান ইকবাল শাহীন মেম্বার, আবু বকর সিদ্দীক ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি প্রদান করেন। সাক্ষীদের জবানবন্দিতে আসামি সরোয়ার হোসেন সোহেল ও তার বাবা হাজি আবুল মিয়া প্রকাশ আবুল কোম্পানিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে হাজি আবুল মিয়া প্রকাশ আবুল কোম্পানিকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

আসামি সরোয়ার হোসেন সোহেল যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারে সেজন্য দেশের বিভিন্ন ইমিগ্রেশনে আবেদন করলেও পরে সোহেলকে ফেনী মডেল থানা থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়। তখন সোহেল বিদেশে পালিয়ে যায়। এসআই সুমন চন্দ্র নাথ নোয়াখালী পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে আইন প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হওয়ায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান পিপিএমকে। তিনি নিহত ইয়াসিনের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখেন আঘাতজনিত কারণে রক্তক্ষরণ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এ মামলার কিছুটা অগ্রগতি হলে পরবর্তীতে পরশুরাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে মাহবুবুর রহমান পিপিএমকে বদলি করা হয়। পরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ফেনী মডেল থানা পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আলীকে। কোনো কারণ ছাড়াই পরিদর্শক মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে মামলাটি নিয়ে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও বর্তমান সোনাগাজী থানার ওসি সাজেদুল ইসলামকে। পুলিশ পরিদর্শক সাজেদুল ইসলাম খুনের বিষয়ে কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে এক মাসের মধ্যে একই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রদান দেন। পরে ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে মামলাটি খারিজ করে দেন ফেনীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবদুর রহিম। জব্দকৃত আলামত বিধি মোতাবেক নিষ্পত্তির জন্য ফেনী মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত।

এ আদেশের পর নিম্ন আদালতের আদেশ বাতিল, এ মামলার পুনঃ তদন্ত ও আসামি গ্রেফতার চেয়ে বাদীনির পক্ষে ২০২১ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি ফেনীর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করা হয়।

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo