ফেনী
শুক্রবার, ১৯শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:৪০
, ২০শে মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি
শিরোনাম:

৩শ আসনেই প্রার্থী ঠিক করে রাখতে চায় জাতীয় পার্টি

আপাতত একলা চলো নীতি অনুসরণ করেই পথ চলতে চায় জাতীয় পার্টি। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঘর গোছানোকেই এখন সবচেয়ে বেশি প্রধান্য দিতে চাইছে দলটি। আগামী নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণের পুরোদমে প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি ৩০০ আসনেই প্রার্থী ঠিক করে রাখতে চায় তারা। অবশ্য জোটভুক্ত হওয়ার বিষয়টিও একেবারে উড়িয়ে দিতে চান না জাতীয় পার্টির নীতিনির্ধারকরা। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান তারা। জাতীয় পার্টির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে এমনই আভাস পাওয়া গেছে।

শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘জোট আছে, জোট থাকবে। আগামী নির্বাচনও জোটবদ্ধভাবে অনুষ্ঠিত হবে।’ শেখ হাসিনা অবশ্য তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের কথাই বলেছেন। এ ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ভূমিকা কী হবে-এমন আলোচনাও চলছে রাজনীতির অন্দরমহলে। দলটি জোটগতভাবে আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে, নাকি এককভাবে নির্বাচন করবে-এ নিয়ে চলছে নানান আলোচনা।

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে জোটভুক্ত হয়ে মহাজোট গঠন করে ২০০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির জোটবদ্ধ হয়ে আনুষ্ঠানিক পথ চলা সেই প্রথম। ওই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে মহাজোট। প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। বিরোধীদলীয় নেতা হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আপন ছোট ভাই, জাতীয় পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান জিএম কাদের তখন মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা পান। প্রথমে বাণিজ্য, পরে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী হিসাবে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের বর্জনের মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসনভাগাভাগি করে অংশ নেয় জাতীয় পার্টি। দ্বিতীয় দফায়ও সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। আর বিরোধীদলীয় নেতা হন জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক বেগম রওশন এরশাদ। সে সময় জাতীয় পার্টির বর্তমান সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ মন্ত্রী এবং বর্তমান মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু ও সাবেক মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা প্রতিমন্ত্রী হিসাবে জায়গা পান শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায়। আর মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসাবে পুরো পাঁচ বছর দায়িত্বে ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে অংশ নেয় জাতীয় পার্টি। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। প্রথমে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হন বিরোধীদলীয় নেতা। তার মৃত্যুর পর বিরোধীদলীয় নেতা হক বেগম রওশন এরশাদ। বিরোধীদলীয় উপনেতা হন জিএম কাদের। শেখ হাসিনার তৃতীয় মেয়াদের সরকারে জাতীয় পার্টির কেউ মন্ত্রিসভায় ঠাঁই না পেলেও দলটির তিন শীর্ষ নেতা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু এবং রওশন আরা মান্নান তিনটি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদে আছেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর বেশি সময় বাকি নেই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। ১৪ দলীয় জোটগতভাবে তারা আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে-এ বিষয়টিও পরিষ্কার করেছে দলটি। এ অবস্থায় প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ভূমিকা কী হবে-এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে চারদিকে। জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে দলটির মহাসচিব সাবেকমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু এমপি মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা এখন কোনো জোটে নেই। আপাতত আমাদের লক্ষ্য একটাই। আর তা হচ্ছে এককভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ। এ জন্য তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ঘর গোছানো, দলকে শক্তিশালী করা, প্রার্থী বাছাইসহ যাবতীয় প্রস্তুতি চলছে। আমরা ৩০০ আসনেই প্রার্থী ঠিক করে রাখতে চাই।’

নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টি কোন জোটে যোগ দেবে কিংবা নতুন কোনো জোট গঠন করবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপাতত আমরা একা চলো নীতি নিয়েই এগোচ্ছি। রাজনীতিতে যেহেতু শেষ কথা বলে কিছু নেই। তাই জোট গঠনের সম্ভাব্যতাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এজন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মুজিবুল হক চুন্নু আরও বলেন, আমরা যাই করি, দলীয় ফোরামে আলাপ-আলোচনা করেই ঠিক করব। দেশের ও মানুষের মঙ্গলের কথা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেব। কাউকে অন্ধকারে রেখে কোনো সিদ্ধান্ত নেব না। তবে আমাদের এই মুহূর্তে চাওয়া হচ্ছে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের নিশ্চয়তা। ভোটের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসাবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের মঙ্গলবার দিনভর দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বেলা ১১টায় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে তিনি প্রথমে বৈঠক করেন দলের অতিরিক্ত মহাসচিবদের সঙ্গে। একই জায়গায় বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দলের কো-চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুটি বৈঠকেই পার্টিকে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় এবং শক্তিশালী করার পাশাপাশি এককভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি আরও জোরালোভাবে শুরু করার নির্দেশনা দেন। এ ছাড়াও তিনি যেসব সাংগঠনিক জেলায় সম্মেলন দীর্ঘদিন যাবত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না-সেগুলো দ্রুততার সঙ্গে শেষ করার নির্দেশ দেন।

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo