ফেনী
শনিবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২:২৮
, ৫ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

পুলিশের দেওয়া গায়েবী মামলায় সাংবাদিককে ধরে কোমরে রশি বেঁধে আদালতে প্রেরণ

ফেনীর বিতর্কিত সাবেক পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম সরকারের নির্দেশে পুলিশের দেওয়া গায়েবী মামলায় এসএম ইউসুফ আলী নামে এক সাংবাদিককে সোমবার গভীর রাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকালে তাকে কোমরে রশি বেঁধে আদালতে তোলা হয়। এনিয়ে জেলায় কর্মরত সাংবাদিক ও সচেতন মহলে ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।
আদালত সূত্র জানায়, ইউসুফ আলীকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে প্রেরণ করে। গ্রেফতারকৃত ইউসুফ দৈনিক অধিকারের ফেনী ব্যুরো চীফ ও অনলাইন পোর্টাল ফেনী রিপোর্ট এর সম্পাদক এবং দাগনভূঞা উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা
তার মামলার কৌসুলী এম, শাহজাহান সাজু জানান, ইউসুফ আলী ২০১৯ সালের আলোচিত নুসরাত হত্যাকান্ডের কর্তব্যে অবহেলার দায়ে প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকারের রোষানলের শিকার। ওইসময়ে গণমাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলম ব্যাপক সমালোচিত হয়ে ফেনী থেকে প্রত্যাহার হয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে অদ্যাবধি সংযুক্ত রয়েছেন। ফেনী থেকে যাওয়ার আগে তিনি জেদ মিটাতে ৪ জন সাংবাদিককে জেলার বিভিন্ন থানায় বেশ কিছু মামলার চার্জশীটে যুক্ত করে দেন। এসব মামলার এজাহারে তাদের কারোই নাম ছিল না। পরবর্তীতে সবকটি মামলায় তারা জামিন লাভ করে আদালতে হাজিরা দিয়ে আসছিলেন। ছাগলনাইয়া থানায় দায়েরকৃত একটি মামলায় ভুলক্রমে হাজিরা দিতে না পারায় ইউসুফ আলীর জামিন বাতিল হয়। পুলিশ সোমবার রাত দেড়টার দিকে তাকে ঘুম থেকে তুলে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।
এদিকে ইউসুফ আলীর গ্রেফতারের খবরে ফেনীতে গণমাধ্যম কর্মী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার দুপুরে দাগনভূঞা থানা পুলিশ তাকে কোমরে রশি বেঁধে আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসলে সাংবাদিকরা প্রতিবাদ জানায়।
সিনিয়র সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের বলেন, একজন গণমাধ্যমকর্মীকে এভাবে ধরে কোমরে রশি বেঁধে আদালতে তোলা ন্যাক্কারজনক। এটা সাংবাদিকতা পেশার প্রতি অবজ্ঞার বহি:প্রকাশ।
সুজন- সুশাসনের জন্য নাগরিক ফেনী শাখার সভাপতি এডভোকেট লক্ষণ বণিক বলেন, ফেনীর তৎকালীন পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম সরকার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার বশে সাংবাদিকদেরকে মামলায় জড়িয়েছেন। একজন সাংবাদিককে গ্রেফতার করে এভাবে অপদস্ত করা কোনভাবেই আইনসম্মত নয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দাগনভূঞা থানার ওসি হাসান ইমাম বলেন, কোমরে রশি বেঁধে আনার বিষয়টি তার অগোচরে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিয়মানুযায়ী গ্রেফতার সাংবাদিককে আদালতে পাঠিয়েছে বলে তিনি জানান।

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo