ফেনী
শুক্রবার, ১লা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১:০০
, ১৯শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি
শিরোনাম:
মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রী করায় মস্কো বেকারসসহ ৪ প্রতিষ্ঠানের জরিমানা দাগনভূঞা প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি সুমন, সম্পাদক রনি ফেনীতে শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ফেনীর প্রবীণ সাংবাদিক শাহজালাল রতনের দাফন দেড় বছরের সাজা এড়াতে ৭ বছর পালিয়ে থেকেও রক্ষা হলো না দাগনভূঞা লন্ডনী নাছের প্লাজা পরিদর্শনে মাসুদ  চৌধুরী এমপি  ফাজিলপুরে ব্যবসায়ীর স্বর্ণ চুরির ১০ দিনে রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৬ ফেনী আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি-জামাত সমর্থিত প্যানেল’র সংখ্যাগরিষ্ঠ জয় জিয়াউদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুতে খেলাঘর ফেনী জেলা কমিটির শ্রদ্ধাঞ্জলি ফের বাংলাদেশি ছবিতে ঋতুপর্ণা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ফেনীর দুইটি আসনে নির্ভার নৌকা,একটিতে লাঙ্গলের মুখোমুখি স্বতন্ত্র

৭ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার সীমা শুক্রবার সকালে শেষ  হয়েছে।নির্বাচনকে ঘিরে ফেনীর তিনটি আসনে আওয়ামী লীগ,জাপা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে।তবে ফেনী ১ ও ২ আসনে  নৌকার প্রার্থীরা জয়ের ব্যাপারে অনেকটা নির্ভার রয়েছেন বলে জানা গেছে।কিন্তু ফেনী-৩ আসনে লাঙ্গলের মুখোমুখি হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী শক্ত অবস্থানে থাকায় নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ফেনী-১ (পরশুরাম, ফুলগাজী- ছাগলনাইয়া) আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক প্রটোকল অফিসার ও আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম।উক্ত আসনে নাসিম ছাড়াও জাপার শাহরিয়ার ইকবালসহ ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।এদের মধ্যে নৌকা ও জাপা ছাড়া বাকি প্রার্থীদের তেমন তৎপরতা নেই।১৯৭৩ সালে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নিজ জন্মভূমি ফেনী-১ আসন থেকে  সাংবাদিক এবিএম মূসা আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন।এরপর থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয়ে যায়।২০১৪ ও ২০১৮ সালে মহাজোটের প্রার্থী হয়ে এমপি হন জাসদ (ইনু) এর সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে আসনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল দলটির নেতাকর্মীরা।প্রথমবারের ন্যায় এবার এ আসনে দলীয় প্রার্থী হয়ে আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম প্রতিদিন নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি জায়গায় পথসভা ও গণসংযোগ করে চলছেন।
প্রতিটি সভায় তিনি বলেন, আমি জাল ভোটে নির্বাচিত হতে চাইনা।তাই ভোট কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিত করার জন্য জোর দিচ্ছেন।
ফেনী-২ (সদর) আসনে নৌকা প্রতিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী,  ঈগল প্রতিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট আনোয়ারুল করিম ফারুক ও জাপার নজরুল ইসলামসহ ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।তবে নির্বাচনী প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন নিজাম হাজারী।মুকুটহীন সম্রাট ও গডফাদার খ্যাত জয়নাল হাজারীর পতনের পর ফেনীর নিয়ন্ত্রক হিসেবে আবিভূত হন  নিজাম উদ্দিন হাজারী।তিনি ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ফেনী-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য হন।তৃতীয়বারের মতো এবারও দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ভোটে এমপি নির্বাচিত হবেন বলে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা।নির্বাচনকে সামনে রেখে সদর উপজেলার ১২ টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ১৮ টি ওয়ার্ডে নৌকার সমর্থনে ব্যাপক প্রচারণা দেখা যায়।
নিজাম উদ্দিন হাজারী প্রতিটি পথসভা ও গনসংযোগে তার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার লক্ষ্যে নৌকা মার্কায় ভোট চান।নিজাম হাজারীর প্রত্যাশা, ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাঁকে ভোট দেবেন।
ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য লে: জেনারেল ( অব:) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও স্বতন্ত্র সাবেক সংসদ সদস্য হাজী রহিম উল্লাসহ ১০ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন।এ আসনে আওয়ামী লীগ নেতা আবুল বাশার নৌকা মনোনয়ন পেলেও দলীয় সিদ্ধান্তে জাপার মাসুদ চৌধুরীর জন্য মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।এরপরেও  ভোট যুদ্ধে জয়ী হবার ব্যপারে মাসুদ চৌধুরীর পথের কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী রহিম উল্লাহ।তবে মাসুদ চৌধুরীকে নির্বাচিত করার জন্য জাপার জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অনেকেই পাশে না থাকলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জোরালোভাবে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।
শুরু থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় মাসুদ চৌধুরী অংশ নিলেও গত শনিবার  স্ত্রীসহ ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়ে তিনি আলোচনা সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হনযদিও ১ জানুয়ারি রাতে ফিরে এসে তিনি আবার প্রচারনায় অংশ নেন। এর আগে ২০১৮ সালে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হয়েছেন সাবেক এই সেনাকর্মকর্তা।

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo