ফেনী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১১:১১
, ১৮ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি
শিরোনাম:
মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রী করায় মস্কো বেকারসসহ ৪ প্রতিষ্ঠানের জরিমানা দাগনভূঞা প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি সুমন, সম্পাদক রনি ফেনীতে শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ফেনীর প্রবীণ সাংবাদিক শাহজালাল রতনের দাফন দেড় বছরের সাজা এড়াতে ৭ বছর পালিয়ে থেকেও রক্ষা হলো না দাগনভূঞা লন্ডনী নাছের প্লাজা পরিদর্শনে মাসুদ  চৌধুরী এমপি  ফাজিলপুরে ব্যবসায়ীর স্বর্ণ চুরির ১০ দিনে রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৬ ফেনী আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি-জামাত সমর্থিত প্যানেল’র সংখ্যাগরিষ্ঠ জয় জিয়াউদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুতে খেলাঘর ফেনী জেলা কমিটির শ্রদ্ধাঞ্জলি ফের বাংলাদেশি ছবিতে ঋতুপর্ণা

ফাজিলপুরে ব্যবসায়ীর স্বর্ণ চুরির ১০ দিনে রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৬

প্রকাশ্য দিবালোকে ফেনীতে ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুল্যের ৭৫ ভরি স্বর্ন ও নগদ ৩০ হাজার টাকা চুরির ঘটনায় ১০ দিনের মধ্যে রহস্য উদঘাটন ও ৬ আসামি গ্রেফতার এবং কিছু মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।রোববার সকালে পুলিশ সুপার জাকির হাসানের প্রেস ব্রিফিং এ তথ্য জানা গেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কুমিল্লার মুরাদনগর  মুকসাইর ধামঘর এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে মোঃ আলাউদ্দিন(৩০),চট্টগ্রাম আনোয়ারার পূর্ব পাড়া পীরখাইন এলাকার মৃত নাসির উদ্দিনের ছেলে মোঃ ফরহাদ (৩৯)  ও বাকুলিয়া কালামিয়া বাজার এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মোঃ বাদশা চৌধুরী (২৩), রাজাখালি এলাকার  মৃত জাহাঙ্গীর শিকদার প্রকাশ মজিবুর রহমানের ছেলে মোঃ সজিব প্রকাশ সুমন প্রকাশ শুক্কুর (২৬),কুমিল্লা মুরাদনগর মোল্লাপাড়ার মৃত-মজলুর ছেলে মোঃ মিজান (২৮) ও দেবিদ্বার পান্নারপুল এলাকার মৃত আবুল হাসানের ছেলে মোঃ শফিক প্রকাশ সোহেল প্রকাশ দাঁতলা শফিক (৩২)।

পুলিশ জানায়, ফেনী সদর উপজেলার  ফাজিলপুর বাজারের আলাদিন জুয়েলার্স’র মালিক আলাউদ্দিন গত  ১১ জানুয়ারি দুপুরে খাবার খাওয়ার জন্য দোকানের থাই গ্লাস টেনে তালাবদ্ধ ও শার্টার বন্ধ করে দুটি তালা লাগিয়ে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যায়।বিকালে পুনরায় দোকানে এসে দেখতে পায় যে, বাম পাশের শার্টার সামান্য খোলা এবং তালা লাগানো নাই। থাই গ্লাসের লক ভাঙ্গা এবং দোকানের ডিসপ্লেসহ শোকেসের ভিতরে রক্ষিত বিভিন্ন প্রকারের স্বর্ণালংকার সর্বমোট ৭৫ ভরি, যাহার সর্বমোট অনুমান মূল্য বিরাশি লক্ষ পঞ্চাশ হাজার ও নগদ ৩০,০০০ হাজার টাকা অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন চোরেরা নিয়ে যায়।এঘটনায় ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করে। ঘটনাসমূহকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করিয়া তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন সহ তথ্য প্রযুক্তি ও ম্যানুয়াল সোর্সিং এর মাধ্যমে মডার্স অপারেন্ডির ধরন বিবেচনায় নিয়ে এবং সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করিয়া দেখা যায় যে,  আসামি ফরহাদ ও বাদশা এবং অন্যান্য দুই জন পলাতক আসামিসহ  ঘটনার আগের দিন  ফাজিলপুর বাজারে এসে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করে উক্ত দোকান দুপুরে বন্ধ করাসহ দুপুরে পুনরায় খোলার সময় পর্যবেক্ষণ করে। ঐ দিন দুপুরের খাবার শেষে বিকাল ৩ ঘটিকার সময় দোকান খোলার পর বাকি ৪ জন আলাদিন জুয়েলার্সে প্রবেশ করে এবং গ্রেফতারকৃত আসামি ফরহাদ দোকান মালিকের সাথে দরদাম করে ১২০০ টাকা দিয়ে একটি নাক ফুল ক্রয় করে। ঠিক ঐ সময় অপর ০৩ জন দোকানে কোন কোন শোকেসে স্বর্ণালংকার আছে তা দেখে নেয় এবং ভিতরে শাটার কেটে সহজে কোন পথে প্রবেশ করা যায় তা দেখে নেয়। আলাদিন জুয়েলার্সের পাশের গলি, সেলুন সহ সামনের পথ সবজির দোকান কিভাবে পাহারা দিতে হবে এবং চুরি করে কোন পথে সহজে বের হয়ে পালানো যাবে সেই পথ বাছাই করে নেয়।

পরিকল্পনা মোতাবেক  ঘটনার দিন আলাদিন জুয়েলার্স দুপুরে বন্ধ করে যাওয়ার পর টিম লিভার বাদশার নেতৃত্বে যে যার মত সেলুনে, সবজির দোকানে, সামনের রাস্তায়, দোকানের উভয় পাশে তারা অবস্থান নেয়। গ্রেফতারকৃত আসামি আলাউদ্দিন দোকানের শার্টারের তালা কাটে, অন্যান্য আসামি গলির পথে পাহারায় থাকে এবং গ্রেফতারকৃত আসামি দাঁতলা শফিক ব্যাগ নিয়ে দোকানের ভিতরে প্রবেশ করে এবং বাদীর এজাহারে উল্লেখিত স্বর্ণালংকার চুরি করে ব্যাগে ভরে সুবিধা মত পালিয়ে যায়। চোরেরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে ফাজিলপুর বাজার হতে মহাসড়কে যায়। সেখান থেকে লোকাল বাসে ফেনী সদর এবং ফেনী সদর থেকে লোকাল বাসে কুমিল্লায় চোরেরা পালিয়ে যায়।

ঘটনার সহিত জড়িত সন্দেহে আন্তঃজেলা স্বর্ণের দোকান চোর চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার এবং চোরাইকৃত স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ উদ্ধারের নিমিত্তে চোরদেরকে তথ্য প্রযুক্তির ভিত্তিতে গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং অবস্থান নির্ণয় পূর্বক ঘটনার সহিত জড়িত চোরদের গ্রেফতারকৃতদের মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই মোঃ রেজওয়ানুল ইসলামের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স বিশেষ অভিযান চালিয়ে  চট্টগ্রাম ও কুমিল্লার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার পূর্বক তাহাদের হেফাজত হইতে চোরাইকৃত ১১ এগার ভরি চার আনা বিভিন্ন আইটেমের স্বর্ণালংকার ও চোরাই স্বর্ণালংকার বিক্রিত নগদ এক লক্ষ আট হাজার পাঁচশত টাকা উদ্ধার এবং ঘটনার সময় চোরাই কাজে ব্যবহৃত তালাকাটার সরঞ্জামাদি সহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত ০৬ জন আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারাসহ ঘটনায় জড়িত অপরাপর মোট ১২ জন আসামীর নাম ঠিকানার তথ্য পাওয়া যায়।গ্রেফতার আসামীরা আন্ত:জেলা স্বর্ণের দোকান চুরি, মোবাইল দোকান চুরিসহ অন্যান্য অপরাধের সাথে জড়িত বলিয়া জানা যায়।

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo