বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ফেনী অফিসে সরকারি কোনো নিয়োগপত্র ছাড়াই মোহাম্মদ ইমরান নামে এক যুবকের দাপট ও সীমাহীন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ইমরান বিআরটিয়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘ফিঙ্গার বোর্ড’ (বায়োমেট্রিক গ্রহণ কক্ষ) নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানিয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, ইমরান দীর্ঘ ২/৩ বছর ধরে বিআরটিএ অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে সেখানে নিজের আধিপত্য বিস্তার করেছেন।সাধারণ গ্রাহকরা ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) দিতে এলে ইমরান তাদের নানাভাবে হয়রানি করেন।ইমরান চক্রের মাধ্যমে না এলে সাধারণ লাইসেন্সপ্রত্যাশীদের সিরিয়াল পেছনে ফেলে রাখা বা সার্ভার ত্রুটির অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, যারা মোটা অঙ্কের টাকা দেন,তাদের কোনো লাইনে না দাঁড়িয়েই দ্রুত আঙুলের ছাপ দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন এই যুবক।
বিআরটিএতে আসা কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার জন্য সরকারি ফির বাইরেও ইমরানকে আলাদাভাবে ‘কমিশন’ দিতে হয়।টাকা দিতে অস্বীকার করলে সাধারণ গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখা হয়
ভুক্তভোগীরা আরও জানান,ইমরান সরাসরি অফিসের ভেতরে বসে বাইরের দালাল সিন্ডিকেটের সাথে সমন্বয় করেন এবং মাস শেষে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
এদিকে একজন বহিরাগত যুবক কীভাবে বিআরটিএর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের বায়োমেট্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন ও চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে,অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রত্যক্ষ মদদেই ইমরান এই ‘ছায়া প্রশাসন’ চালিয়ে যাচ্ছেন।বিনিময়ে ওই কর্মকর্তারাও এই আয়ের একটি বড় অংশ ভাগ পান।
অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ ইমরান প্রথমে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে স্বীকার করেন যে,অফিস কর্মকর্তাদের সাথে চুক্তির বিনিময়ে বোর্ড পরিচালনা করে থাকেন।
এ ব্যাপারে বিআরটিএ ফেনীর পরিদর্শক আবদুল বারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন,একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন যে,ইমরান নামে অফিসের কোন কর্মচারী নাই ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট বোর্ড পরিচালনার সুযোগ নেই।



