ফেনী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ২:৪৫
, ৯ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

মধ্যবিত্তদের ঘরে ঘরে ‘বিদ্যাপীঠ সংঘ’র উপহার সামগ্রী

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রকোপে সারাবিশ্ব নাজেহাল হয়ে পড়েছে।সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বিশ্বের সকল দেশেই চলছে লকডাউন। বাংলাদেশও এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রেহায় পায়নি। এখন পর্যন্ত দেশে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫৭২ জন, মারা গেছেন ৬০ জন।

বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে প্রায় সকল জায়গায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো চলছে কঠর লকডাউন। আর এই লকডাউনে বিপদে পড়েছে বিভিন্ন পেশার মানুষ। লকডাউনে কাজকর্ম হারিয়ে একরকম না খেয়ে থাকা অবস্থার উপক্রম হয়েছে।

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় এই দূর্যোগ মোকাবেলায় মানুষ হিসেবে সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন অনেকেই। যারা একেবারে গরীব, যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় এবং যারা মধ্যবিত্ত; তারা ছেলেসন্তান নিয়ে আধাপেটা খেয়ে দিন গুজরান করলেও তারা কখনোই ত্রাণ নেওয়ার সিরিয়ালে দাঁড়াবেন না।

বাসার দরজায় নক করে কেউ ত্রাণ দিতে চাইলে সেখানেও তাদের না। “স্যরি, আমাদের কোনরকম ত্রাণ-টান লাগবে না”। এরা মধ্যবিত্ত।

ক্ষুধার জ্বালার চাইতেও সামাজিক সম্মান এবং মাথা উঁচু করে রাখা এদের কাছে বেশি জরুরি। না পারেন চাইতে, না পান খাইতে।

প্রয়োজনে না খেয়ে থাকবে কিন্তু নিজেদের আত্মসম্মানের কথা ভেবে কারো কাছে হাত তুলতে চাইবে না এমন বেশকিছু মধ্যবিত্ত পরিবারের কিছুটা কষ্ট লাঘবে ফেনীর বাসনায় বাঁশপাড়া কোয়ার্টারের ঐতিহ্যবাহী সংঘ বিদ্যাপীঠ সংঘের সকল সদস্যের উদ্যোগে এবং ঐকান্তিক চেষ্টায় উল্লিখিত সংখ্যক পরিবারের মাঝে সীমিত আকারে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।

আজ সকাল ১১ টা থেকে শুরু করে দুপুর ২টা পর্যন্ট উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে সংগঠনটি। পূর্বেই ঐ সকল পরিবারের তালিকা করে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপহার সামগ্রীগুলো পৌঁছে দিয়েছে সংগঠনের সদস্যরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বড় আঙ্গিকের ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ এই সংগঠন সকল প্রকার সামাজিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘ ১৩ বছর যাবৎ কাজ করে যাচ্ছে।

এই সংগঠনে কাজ করা একজন সদস্য, সৌরভ মিত্র টিটু জানান, লবণাক্ত শরীরে ক্লান্ত এক প্রাণ ক্ষুধা তৃষ্ণার মহড়ায় ব্যস্ত সবাই জৈবিক তাড়নায় চলমান, দারিদ্র্যতা কে আমরা আমাদের দুর্বলতা বানিয়ে ফেলেছি। বর্তমান সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশগুলোতে ও খাদ্য নিরাপত্তা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে সে দেশের সরকারকে। এমতাবস্থায় আমাদের দেশে শুধু সরকার অভিমুখী হয়ে থাকাটাই যথেষ্ট নয়। সমাজের বৃত্তশালীসহ সামাজিক সংগঠনগুলো এগিয়ে আসার কোন বিকল্প নেই। এ সংগঠন অসহায় দরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করছে এবং করবে, সবার দোয়া এবং আশীর্বাদ কাম্য।

শেষে তিনি একটা কথাই বলেন, আমরা কেউ আর স্বাভাবিক নই; কি ভয়াবহ অস্বাভাবিকভাবে স্বাভাবিক হয়ে আছি! আমাদের উচিত ধর্ম জাতি বর্নের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একে অপরের কাধে সাহায্যের হাত রেখে কাজ করে যাওয়া।

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo
error: Content is protected !!