ফেনী
মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১:০২
, ২৭শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনাম:
সোনাগাজীতে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু ফেনী সোসাইটি উত্তরার শিক্ষা বৃত্তি প্রদান-ইফতার মাহফিল ঘুষের টাকাসহ সোনাগাজীতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও সহযোগী আটক নির্বাচনী এলাকায় সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধে হটলাইন চালু পরিবেশমন্ত্রী মিন্টুর প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হয়ে চমক দেখালেন আবদুল আউয়াল মিন্টু ফেনীর ৩টি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ের পথে ফেনীতে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত জয়ের আশায় বিএনপি,চমক দেখাতে চায় জামায়াত-এবি পার্টি ফেনীতে ঈগলের ভোটের গাড়ী ক্যারাভানের উদ্বোধন জনগণ সুযোগ দিলে ফেনীতে সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে

ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে সাকিবের হাফ সেঞ্চুরি

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক-দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে ৩৭০ রানের টার্গেটে নেমে ৬১ রানেই বাংলাদেশ হারায় ৫ উইকেট। আগের দুই ম্যাচের সেরা পারফর্মার ইমরুল কায়েস ও মুশফিকুর রহিম ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। বরং বাফেলো পার্কে অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে সাকিব আল হাসান পেলেন তার ক্যারিয়ারের ৩৫তম ফিফটি। ২৬ ওভারে ৫ উইকেটে বাংলাদেশের স্কোর ১০৫ রান।

শুরুতেই ইমরুল, লিটন দাস ও সৌম্য সরকারকে হারিয়ে বিপদে পড়েছিল সফরকারীরা। ২০ রানে তারা তিনজন ফেরেন সাজঘরে। এরপর ক্রিজে নেমে সাকিবের সঙ্গে মুশফিক প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টায় ছিলেন। কিন্তু মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহকে দ্রুত ফিরিয়ে আবারও সফরকারীদের চাপে ফেলে প্রোটিয়ারা। ৬১ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ৪৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশের হাল ধরেছেন সাকিব ও সাব্বির রহমান। ৬৩ বলে ৬ চারে হাফসেঞ্চুরি পেয়েছেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার।

গত দুই ওয়ানডেতে আশা জাগানো ব্যাটিং করেছিলেন ইমরুল। কিন্তু মান বাঁচানোর শেষ ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরার আগেই ফেরেন বাংলাদেশি ওপেনার। প্রথম ওভারে কাগিসো রাবাদার তোপ সামলে পাঁচ বল খেলে ১ রান করেছিলেন ইমরুল। পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে স্ট্রাইকিং প্রান্তে গিয়ে ডেন প্যাটারসনের শিকার তিনি। অফসাইডের বাইরে দিয়ে আসা বল ব্যাটের বেশ খানিকটা উপরে লেগে মিড অফে ফারহান বেহারডিয়েনের হাতে ধরা পড়ে। মাত্র ১ রানে আউট ইমরুল।

প্যাটারসন পরের ওভারে লিটন দাসকে এলবিডাব্লিউ করেন। তিনি করেন মাত্র ৬ রান। রাবাদা তার তৃতীয় ওভারে সৌম্যকে (৮) বানান এইডেন মারক্রামের ক্যাচ। ক্রিজে থেকে প্রতিরোধ গড়েছিলেন মুশফিক ও সাকিব। তবে অ্যান্ডিল ফেলুকোয়াইয়োর বলে তাদের জুটি ৩১ রানের বেশি হয়নি। প্রথম দুই ম্যাচে অপরাজিত ১১০ ও ৬০ রান করা মুশফিক শেষ ম্যাচে মাত্র ৮ রানে রাবাদার হাতে ক্যাচ দেন। সাকিবকে ক্রিজে সঙ্গ দিতে নেমে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে তাকে ফিরিয়ে প্রথম উইকেট পান উইলেম মুলডার। ২ রানে মাহমুদউল্লাহকে এলবিডাব্লিউ করেন এ পেসার।

এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাট করতে নামলে আবারও বাংলাদেশি বোলাররা ব্যর্থতার পরিচয় দেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় মাশরাফি মুর্তজারা বল হাতে ভালো কিছু করতে পারলেন না শেষ ওয়ানডেতেও। অবশ্য ডেথ ওভারে আবারও সাফল্য পেয়েছে তারা। ৪৬ ও ৪৭তম ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার তিন ব্যাটসম্যানকে ফেরান তাসকিন আহমেদ ও রুবেল হোসেন। কিন্তু ১০০ ছাড়ানো দুটি শক্ত জুটিতে দ্বিতীয় ওয়ানডের চেয়েও সমৃদ্ধ হয়েছে প্রোটিয়াদের স্কোরবোর্ড। রবিবার বাফেলো পার্কে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ৩৬৯ রান করে স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডেতে সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান ছিলেন হাশিম আমলা। শেষ ম্যাচে তাকে বিশ্রামে রেখেও দক্ষিণ আফ্রিকা কোনও সমস্যার মুখোমুখি হয়নি। কুইন্টন ডি ককের সঙ্গে এদিন উদ্বোধনী জুটিতে নামেন তেম্বা বাভুমা। হাফসেঞ্চুরির আক্ষেপ থেকে গেলেও তিনি আউট হওয়ার আগে শক্ত জুটি গড়েন। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন বাভুমা। ৪৮ রানে আউট হন তিনি। তবে ১১৯ রানের ওই জুটি শক্ত ভিত গড়ে দিয়ে যায়।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় উইকেট পেয়েছে তাড়াতাড়ি। ১৫তম ফিফটি পাওয়া ডি কক ৬৮ বলে ৭৩ রান করে ফিরতি বলে মিরাজকে ক্যাচ তুলে দেন। তারপর আবার প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের দাপট। ফাফ দু প্লেসি ওয়ানডেতে অভিষিক্ত হওয়া এইডেন মারক্রামকে সঙ্গে করে বিশাল জুটি গড়ার পথে ছিলেন। কিন্তু পিঠে চোট নিয়ে স্বাগতিক অধিনায়ক মাঠ ছাড়ায় ওই জুটি ১৫১ রানের বেশি হয়নি।

৬৭ বলে ১০ চার ও ১ ছয়ে ৯১ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হন দু প্লেসি। চিকিৎসকদের সহায়তায় মাঠ থেকে তিনি বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর মারক্রাম থামেন। ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডেতে হাফসেঞ্চুরি পাওয়া এই ব্যাটসম্যান রান আউট হন ৬৬ রান করে।

মারক্রামের অন্তর্ভুক্তিকে এক ধাপ নিচে নেমে পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করা এবি ডি ভিলিয়ার্স এদিন স্বতঃস্ফূর্ত ছিলেন না। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৭৬ রান করা এই ব্যাটসম্যান ২০ রানে মাশরাফির দুর্দান্ত ক্যাচ হন। ৪৬তম ওভারে তাকে ফেরান রুবেল। পরের ওভারে তাসকিনের জোড়া আঘাত। নবাগত উইলেম মুলডারকে (২) এলবিডাব্লিউ করেন ডানহাতি পেসার। কয়েক বল পর অ্যান্ডিল ফেলুকোয়াইয়োকে (৫) মুশফিকের ক্যাচ বানান তাসকিন।

দুই ওভারে তিন উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ প্রোটিয়াদের রানের লাগাম টেনে ধরার ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু ফারহান বেহারডিয়েন ও কাগিসো রাবাদার ঝড়ো ব্যাটিং গত ম্যাচের চেয়েও বেশি রান এনে দেয় স্বাগতিকদের। ২৪ বলে চারটি চারে ৩৩ রানে অপরাজিত ছিলেন বেহারডিয়েন। ৩ চার ও ১ ছয়ে ১১ বলে ২৩ রানে খেলছিলেন রাবাদা।

মিরাজ ও তাসকিন দুটি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের সফল বোলার

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo
error: Content is protected !!