ফেনী
মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:০৮
, ২৭শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনাম:
সোনাগাজীতে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু ফেনী সোসাইটি উত্তরার শিক্ষা বৃত্তি প্রদান-ইফতার মাহফিল ঘুষের টাকাসহ সোনাগাজীতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও সহযোগী আটক নির্বাচনী এলাকায় সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধে হটলাইন চালু পরিবেশমন্ত্রী মিন্টুর প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হয়ে চমক দেখালেন আবদুল আউয়াল মিন্টু ফেনীর ৩টি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ের পথে ফেনীতে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত জয়ের আশায় বিএনপি,চমক দেখাতে চায় জামায়াত-এবি পার্টি ফেনীতে ঈগলের ভোটের গাড়ী ক্যারাভানের উদ্বোধন জনগণ সুযোগ দিলে ফেনীতে সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে

রোহিঙ্গাদের দুর্গম যাত্রা ‘৮ দিন শুধু পাতা খেয়েছি’

 

কথা ডেস্ক-মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সচ্ছল সংসার ছিল রাশিদার। কিন্তু হঠাৎ নেমে আসে ভয়াবহ অন্ধকার। সেনাবাহিনীর গণহত্যা থেকে বাঁচতে তিন সন্তান নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন তিনি। আশ্রয় নিয়েছেন কক্সবাজারের উখিয়ার উনচি প্রাঙ্ক শরণার্থীশিবিরে। সেখানেই আলজাজিরার প্রতিনিধি কেটি আর্নল্ডের কাছে তুলে ধরেছেন সহিংসতা আর ভয়াবহতার কথা-

‘রাশিদা আমার নাম, বয়স ২৫ বছর। আরাকানে সহিংসতার আগে আমার খুবই শান্তিপূর্ণ ও সাদাসিধে জীবন ছিল। কিছু চাষের জমি ছিল আমাদের। ছিল গবাদিপশু। সুন্দর একটি ঘর ছিল। স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে সেখানে বাস করতাম। এই সহিংসতার আগে সুখের সংসার ছিল আমার। কিন্তু সব কিছুই আমরা ফেলে এসেছি। আমাদের বাড়ি ও ফসলের ক্ষেত পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সেখানে জীবিকা নির্বাহের আর কোনো পথ নেই। সেনাবাহিনী যখন আমাদের গ্রামে হামলা করল- দ্রুত তিন সন্তানকে নিয়ে জঙ্গলে লুকাই। জঙ্গলে খুবই ভয়ে ছিল বাচ্চারা।

কিছুক্ষণ পর ওদের জঙ্গলে রেখে বাড়ি গিয়ে দেখি, অনেক লোককে হত্যা করা হয়েছে, তাদের লাশ পড়ে আছে। তারপর সেই জঙ্গল থেকেই বাচ্চাদের নিয়ে হাঁটা শুরু করি। আট দিন পর এসে পৌঁছলাম বাংলাদেশ সীমান্তে। এ সময় খুবই ক্ষুধার্ত ছিলাম আমরা। গাছের পাতা ছাড়া খাওয়ার মতো কিছুই ছিল না। বাচ্চারা খাবার চেয়েছে। কিন্তু আমরা তো সাথে কিছুই আনতে পারিনি খাওয়ার মতো।

ছোট্ট একটি নৌকায় চড়ে সীমান্তের নদী পার হয়েছি আমরা, যা ছিল খুবই বিপজ্জনক। মনে হয়েছে এই বুঝি নৌকা ডুবে গেল। শিশুদের শক্ত করে ধরে রেখেছিলাম দু’হাতে। বাংলাদেশে এসে আমি মোটেই খুশি নই। এক একর জমিতে ধান চাষ করতাম। নিজেদের গবাদিপশু ছিল। থাকার ঘর ছিল। তা ছাড়া, আমাদের গ্রামটি ছিল খুবই সুন্দর। এর সব কিছুই আমরা ফেলে এসেছি। কাজেই আপনারা হয়তো বুঝতে পারছেন, কতটা কষ্টে আছি আমরা।

বাড়ির কথা মনে পড়লে ভীষণ কষ্ট হয়। এখানে আমরা আশাহীনভাবে বেঁচে আছি। ভবিষ্যতে কী হবে, তা জানি না। পর্যাপ্ত সাহায্যও পাচ্ছি না। বাংলাদেশীরা খুবই দয়ালু। তারা খাদ্য ও কাপড় দিয়ে আমাদের সহায়তা করছে। কিন্তু কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থাকে এখানে দেখছি না। আশা করি, তারা আমাদের সাহায্য করবে। আমাদের খাদ্য দরকার। বিশ্ববাসীর কাছে আমার আকুতি, আমরা শান্তি চাই। শান্তি ছাড়া আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।’

ভাষান্তর : আহমেদ বায়েজীদ

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo
error: Content is protected !!