ফেনী
রবিবার, ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:০৩
, ২৫শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনাম:
সোনাগাজীতে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু ফেনী সোসাইটি উত্তরার শিক্ষা বৃত্তি প্রদান-ইফতার মাহফিল ঘুষের টাকাসহ সোনাগাজীতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও সহযোগী আটক নির্বাচনী এলাকায় সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধে হটলাইন চালু পরিবেশমন্ত্রী মিন্টুর প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হয়ে চমক দেখালেন আবদুল আউয়াল মিন্টু ফেনীর ৩টি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ের পথে ফেনীতে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত জয়ের আশায় বিএনপি,চমক দেখাতে চায় জামায়াত-এবি পার্টি ফেনীতে ঈগলের ভোটের গাড়ী ক্যারাভানের উদ্বোধন জনগণ সুযোগ দিলে ফেনীতে সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে

যুবলীগ নেত্রী পাপিয়ার অন্ধকার রাজ্য, নানা আলোচনা

শামীমা নূর পাপিয়া। ডাক নাম পিউ। নরসিংদী জেলা মহিলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। স্বামী মফিজুর রহমান সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন। এক সময় নরসিংদী জেলার ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ছিলেন। রাজনীতিতে প্রয়াত মেয়র লোকমানের অনুসারী ছিলেন তিনি। হত্যার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দলীয় পদপদবি, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ওঠাবসা আর ব্লাকমেইলিং- এই তিনে মিলে অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন এই দম্পতি।

সমাজ সেবার আড়ালে অসহায় নারীদের দিয়ে দেহব্যবসা, গোপন ভিডিও ধারণ করে প্রভাবশালীদের ব্লাকমেইলিং, অস্ত্র-মদের ব্যবসা, জাল টাকা- এসব করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছিলেন পাপিয়া।

চলাফেরায় ছিলো রাজকীয় ভাব। বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন। ঢাকায় রয়েছে অভিজাত ফ্ল্যাট। নিজ জেলা নরসিংদী গেলে মোটসাইকেল মহড়া দিয়ে স্বাগত জানাতো তাদের পোষা বাহিনী। এসব মোটরসাইকেলও সরবরাহ করেছেন পাপিয়া। ফাইভস্টার হোটেল থেকে শুরু করে নিজ এলাকাতেও খুলেছিলেন দেহব্যবসালয়। তাদের অবৈধ এসব ব্যবসা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও প্রসার লাভ করে। তবে শেষরক্ষা হয়নি তাদের। শনিবার সকালে দেশ ছেড়ে পালানোর সময় শাহজালাল বিমানবন্দরে র‌্যাবের জালে ধরা পড়েছেন তারা। তাদের সঙ্গে আটক হয়েছেন তাদের দুই সহকারীও। আটক অন্য দু’জন হলো সাবিক্ষর খন্দকার (২৯), শেখ তায়্যিবা (২২)। আটকের সময় শুরুতে পাপিয়া নিজের দাপুটে অবস্থানের পরিচয় দেন। তবে কোনো কিছুতেই রেহাই পাননি এ যাত্রায়।

পাপিয়া নিজেকে পরিচয় দিতেন ক্ষমতার রাঘববোয়ালদের কর্মী হিসেবে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গিয়ে নেতাদের ফুল দিয়ে সেই ছবিরও অপব্যবহার করতেন। তিনি নিজেকে কেন্দ্রীয় নেত্রী হিসেবেও পরিচয় দিতেন।
পাপিয়া পাঁচ তারকা হোটেলে নারী ও মাদক ব্যবসা চালাতেন। এগুলোই তার আয়ের মূল উৎস। দেশের অভিজাত কিছু মানুষ ও বিদেশিরা এর গ্রাহক। ইন্টারনেটে স্কট সার্ভিস খুলে বসে খদ্দেরদের কাছে তাদের চাহিদামতো সুন্দরী তরুণী পাঠাতেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষিত সুন্দরী তরুণীদের সংগ্রহ করতেন। একপর্যায়ে তাদেরকে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের শয্যাসঙ্গী হতে বাধ্য করতেন পাপিয়া। এরই মধ্যে পাপিয়ার কাছ থেকে গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত অনেক ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তির অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ভিডিও ক্লিপ উদ্ধার করা হয়েছে। গোপন ক্যামেরায় মেয়েদের ছবি ধারণ করে তাদের নিয়মিতভাবে ব্ল্যাকমেইল করতেন তিনি।
পাপিয়ার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়- পাপিয়া বসে আছেন বাইজিবাড়ির সর্দারনির মতো। তার হাতে মোটা একটি বেতের লাঠি। তার কব্জায় থাকা মেয়েরা কথা না শুনলে পেটাতেন। পাপিয়া একাধিক অভিজাত হোটেলের রুম ভাড়া নিতেন নামে-বেনামে।

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo
error: Content is protected !!