ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডে ফেঁসে যাচ্ছেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রুহুল আমিন।এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রুহুল আমিনের নাম বার বার উঠে আসলেও তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট বিষয়টি অস্বীকার করে আসছেন।
রবিবার মামলার এজাহারনামীয় আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদত হোসেন শামীম আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘটনায় জড়িত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ব্যক্তিদের নামও উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনের নামও রয়েছে বলে জানা গেছে।
রবিবার দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা ধরে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাকির হোসেন আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাতের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নুর উদ্দিন ও শাহাদাত পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে।
এর আগে ঢাকায় পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) সদর দফতরে এজাহারভুক্ত আসামিসহ মোট ১৩ জন হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত বলে জানান পুলিশের এই ইউনিটের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।
পিবিআই-এর ফেনীর দায়িত্বরত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান রাতে বলেন, ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নুর উদ্দিন ও শাহাদাত অনেক তথ্য দিয়েছে। তারা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার নির্দেশে তারা কীভাবে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কীভাবে কী করে তা বিস্তারিত বলেছে।’
পিবিআই-এর এই কর্মকর্তা বলেন, ‘নুর উদ্দিন ও শাহাদাত আরও কিছু নাম বলেছে। আমরা তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করছি না। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে বাকিদেরও গ্রেফতার করা হবে।’
তদন্ত সূত্র জানায়, যৌন হয়রানির মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা গ্রেফতার হওয়ার পর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের নির্দেশে নুর উদ্দিন ও শাহাদাত অধ্যক্ষ মুক্তির জন্য আন্দোলন শুরু করে। এজন্য সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলম তাদের ১০ হাজার টাকাও দিয়েছিল। এ ছাড়া, মাদ্রাসার আরেক শিক্ষকও আন্দোলন ও নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার জন্য পাঁচ হাজার টাকা দেন।
সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া শাহাদাত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর সে দৌড়ে নিচে নেমে উত্তর দিকের প্রাচীর টপকে বের হয়ে যায়। বাইরে গিয়ে সে রুহুল আমিনকে ফোনে বিষয়টি জানায়। রুহুল আমিন বলে, আমি জানি। তোমরা চলে যাও।
শাহাদত বলেছে, নুসরাতের দায়ের করা মামলার পর রুহুল আমিন থানা ম্যানেজ করার দায়িত্ব নিয়েছিল। এজন্য সে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার পরিবারের কাছ থেকে টাকাও নেয়।
নুসরাতের প্রতি নিজের ক্ষোভ থাকার কথা উল্লেখ করে শাহাদত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছে, দেড় মাস আগেও সে নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু নুসরাত তা প্রত্যাখান করার পাশাপাশি অপমানও করে। এ কারণে সে নিজেও নুসরাতের প্রতি ক্ষুদ্ধ ছিল। যার ফলে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার নির্দেশে অন্যদের সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।
আরেক আসামি নুর উদ্দিন জানিয়েছে, তার সঙ্গে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার ভালো সম্পর্ক ছিল। এ কারণে তার নির্দেশে তারা পরিকল্পনা করে নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ঘটনার সময় সে ভবনের নিচে ছিল। আর পরিকল্পনা অনুযায়ী পপি গিয়ে নুসরাতকে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায়।
নুর উদ্দিন জানিয়েছে, অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা নানা সময়ে ছাত্রীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের যৌন হয়রানি করতো।



