বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে কারাবন্দী চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে না জানিয়ে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত ও পরে তা নাকচ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে আজ দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করবে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল দেশে ফিরে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। আজ বেলা ১১টায় গুলশান কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রধানত এ বিষয়েই কথা বলবেন বলে জানা গেছে।
বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে স্থানীয় বিএনপির ৩ নেতা গতকাল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বগুড়া জেলার নেতাদের এক বৈঠক শেষে বলা হয়, এই আসনে বেগম খালেদা জিয়ারও মনোনয়নপত্র দাখিল করা হবে। কিন্তু এক দিন পরেই সিদ্ধান্ত পাল্টে যায়। দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী- বেগম জিয়া উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে কেবল আপত্তিই জানাননি, তিনি ক্ষিপ্তও হয়েছেন। এ অবস্থায় উপনির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ ও বেগম জিয়াকে প্রার্থী করা নিয়ে দলের বিভিন্ন স্তরে এক ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সিনিয়র একাধিক নেতা বেগম জিয়াকে প্রার্থী করার চিন্তাকে ‘নাবালকসুলভ’ বলেও মন্তব্য করেছেন।
জানা গেছে, বেগম জিয়া নির্বাচন না করার কথা জানিয়ে যে বার্তা দিয়েছেন, তাতে দলের নেতাকর্মীরা উৎফুল্ল হয়েছেন। এ ঘটনায় বেগম জিয়াকে আবারো ‘আপসহীন’ নেত্রী বলে তারা উল্লেখ করেছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতা গতকাল আলাপকালে বলেছেন, বেগম জিয়াকে না জানিয়ে তাকে প্রার্থী করার বিষয়ে স্থানীয় নেতাদের প্রস্তাব আমলে নেয়া সঠিক হয়নি। এটি যারা করেছেন, তাদের হাতে কোনো যুক্তি আছে বলে মনে হয় না। খালেদা জিয়াকে আমরা এখনো মুক্ত করতে পারিনি, এটি আমাদের একটি বড় ব্যর্থতা। কিন্তু নির্বাচিতদের সংসদে যাওয়া, উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ এসব ইস্যু তার মুক্তির দাবিকে গৌণ করে দিচ্ছে।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ জনি বলেন, জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বেগম খালেদা জিয়া আবারো প্রমাণ করলেন, তিনি যে আপসহীন। এটি আমাদের রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ও অনন্য দৃষ্টান্ত। যুবদল নেতা মাহবুবুল হাসান পিঙ্কু বলেন, আপসহীন দেশনেত্রীকে উপনির্বাচনে প্রার্থী করে যারা বিব্রত করার চেষ্টা করেছেন, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। বেগম জিয়া আপসকামিতার রাজনীতি কেনো দিন করেননি, করবেনও না। বেগম জিয়াকে প্রার্থী করার পেছনে কী যুক্তি ছিল, এমন প্রশ্নের উত্তরে দলের এক নেতা বলেছেন, ‘অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ। বর্ণচোরারা হিরো সাজতে গিয়ে এ ধরনের কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলে।’ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনটি আসনে তার পক্ষে মনোনয়ন জমা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনটি আসনেই প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। জানা গেছে, ওই নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক ক্ষুব্ধ অবস্থানে রয়েছেন বেগম জিয়া। তিনি তার দলের নির্বাচিতদের সংসদে যাওয়ারও পক্ষে ছিলেন না।



