ফেনী
মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১:০৬
, ২২শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনাম:
ফেনীতে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি উপহার পাচ্ছেন পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা হারুনের পরিবার ফেনীতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ,ক্লিনিক সিলগালা ফেনীর সেই যুবকের মিথ্যা মামলায় অব্যাহতি পেলেন সাংবাদিক মাঈন উদ্দিন পাটোয়ারী ফেনীতে ‘ডিবি’ সেজে অপহরণের চেষ্টা, আটক ৬ ইয়ুথ এইড সোসাইটির নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফারুক,সম্পাদক আরমান ফেনীতে ২ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন অধ্যাপক এমএ খালেক দাগনভূঞায় দুই ইটভাটার জরিমানা। ফেনী কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার ফেনী ইউনিভার্সিটিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত

হাশিম আমলা,ধর্মভীরু অন্যরকম এক ক্রিকেটার

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক-লম্বা দাড়ির মনোযোগী এক ক্রিকেটার । যার দৃষ্টি বলের দিকে কিংবা ব্যাটসম্যানের দিকে। অলরাউন্ডার এই খেলোয়াড় যিনি দক্ষিন আফ্রিকার টিমকে উজ্জীবীত করার মতো সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি। হ্যা তিনি হাশিম আমলা।

দক্ষিন আফ্রিকার ডারবানে ১৯৮৩ সালে জন্ম। ব্যাটসম্যান হিসাবে তার অর্জন সবচেয়ে বেশি হলেও তিনি কখনো কখনো বোলিং করেন। এক দিনের আর্ন্তজাতিক ম্যাচে ২০ টি সেঞ্চুরি করা সেরা খেলোয়ারদের একজন তিনি।

দক্ষিন আফ্রিকার টিমের সেরা এই খেলোয়াড়ের জন্ম দক্ষিন আফ্রিকার একটি মুসলিম পরিবারে। হাশিম আমলার পূর্বপুরুষ ভারতের গুজরাট থেকে দক্ষিন আফ্রিকায় স্থায়ী হয়। পারিবারিক পরিবেশ থেকে তিনি ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলে জীবন যাপন করেন। ডারবানে তিনি তার ভাই আহমেদ আমলার সাথে হাই স্কুল লেখাপড়া শেষ করেন।

তার ভাই ছিলেন ক্রিকেটার। হাশিম আমলা সুমাইয়া নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। তার স্ত্রী হিজাব পড়েন স্বামীর মতো তিনিও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেন। টেস্টে অভিষেকের পূর্বেই হাশিম আমলা এলকোহলজাতীয় তরল পদার্থের লোগো বিপণনের মাধ্যম হিসেবে বিজ্ঞাপনচিত্র নিয়ে খেলার মাঠে ঢুকাবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে অদ্যাবধি বজায় রেখেছেন।

তার এই নীতি ধর্মীয় অনুশাসন ও মূল্যেবোধ মেনে চলার ব্যাপারে দৃঢ়তার বহি:প্রকাশ। হাশিম আমলা নিয়মিত নামায আদায় করেন।রমজান মাসে যে কয়েকজন মুসলিম খেলোয়াড় রোজা রেখে ক্রিকেট খেলেন আমলা তাদের একজন।

ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি প্রথমদিকে ব্যাটিং করেন এবং মাঝে মাঝে মিডিয়াম পেস বোলিং করে থাকেন। টেস্ট খেলায় ৩নং ব্যাটসম্যান ও একদিনের খেলায় শুরুতেই ব্যাটিং অর্ডারে নামেন আমলা।

ডারবান হাইস্কুল থেকে ডিগ্রী গ্রহণ করেছেন আমলা। যুবদের ক্রীড়াঙ্গনে আমলা আঞ্চলিক দল হিসেবে কোয়াজুলু নাটাল ডলফিনসে অভিষেক ঘটান। খুব দ্রুত দক্ষিণ আফ্রিকা দলের প্রধান হিসেবে মনোনীত হয়ে ২০০২ সালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে দলকে নিয়ে যান।

তার বড় ভাই আহমেদ আমলাও একজন পেশাদার ক্রিকেটার এবং দু’বছর পূর্বে ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করে ডলফিনের অধিনায়ক ছিলেন।

ডলফিনসের অধিনায়ক থাকাকালে হাশিম আমলা ২০০৪-০৫ মওসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম আটটি ইনিংসের চারটিতেই সেঞ্চুরি করেছিলেন।

তার এ সাফল্য ঘরোয়া পর্যায় থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ২০০৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের ভারত সফরে যেতে সহায়তা করে। এর মধ্য দিয়েই আমলা প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পদার্পণ করেন।

টেন স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকার ও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটসম্যান ডিন জোন্স ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম শ্রীলঙ্কার মধ্যকার টেস্ট খেলার ক্যাচ ধরার একপর্যায়ে আমলাকে টেরোরিস্ট বা সন্ত্রাসী নামে আখ্যায়িত করেন।

তিনি বলেছিলেন যে, সন্ত্রাসীটি আরো একটি উইকেট ধরল। পরমুহুর্তেই সম্প্রচার বন্ধ করে বাণিজ্যিকভাবে বিজ্ঞাপন বিরতি দেয়া হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিশ্বব্যাপী এ সম্প্রচারের ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার সমর্থক, খেলোয়াড়, সাবেক ক্রিকেটারসহ ভাষ্যকারের প্রচণ্ড ও ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ফলে টেন স্পোর্টস চ্যানেলটি ডিন জোন্সের সাথে তাদের চুক্তির কার্যক্রম স্থগিত রাখে।

 

ট্যাগ :

আরও পড়ুন


Logo
error: Content is protected !!