ফেনীর ফুলগাজীতে উন্নয়ন প্রকল্পের চেক জালিয়াতি করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাতের মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার বিকালে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন,ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক সিএ পার্থ সারথী পাল, বর্তমান অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ এবং নূর ইসলাম।এদের মধ্যে পার্থ সারথী পাল বর্তমানে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে কর্মরত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বদলি জনিত কারণে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতিকালে ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ফাহরিয়া ইসলাম উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করেন। এ সময় চেকবইয়ের কাউন্টারফয়েল (মুড়ি) এবং ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের হিসাবের মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, ২৬টি চেকে টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। ফলে সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযুক্ত তিনজনকে কার্যালয়ে ডেকে এনে ফুলগাজী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে চেক জালিয়াতির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ইউএনওর স্বাক্ষর নেওয়ার পর চেকের মূল অঙ্কের আগে অতিরিক্ত সংখ্যা বসিয়ে টাকার পরিমাণ বাড়ানো হতো। একই সঙ্গে টাকার বানানেও পরিবর্তন আনা হতো। তবে চেকবইয়ের কাউন্টারফয়েলে এসব পরিবর্তনের কোনো উল্লেখ না থাকায় হিসাব পর্যালোচনার সময় অনিয়মটি ধরা পড়ে।
সুত্রে জানা গেছে, গত প্রায় এক বছর ধরে একই কৌশলে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছিল। চলতি বছরের ১ মার্চ সর্বশেষ এমন ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। একই বছরের মার্চ মাসে পার্থ সারথী পাল ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে বদলি হওয়ার পর এ ধরনের আর কোনো ঘটনার তথ্য মেলেনি।
এ ঘটনায় ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের সিএ আবদুল হালিম চৌধুরী সুজন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, চেক জালিয়াতির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।এ ঘটনায় হিসাব-সংক্রান্ত নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট চেক ও ব্যাংকের তথ্য যাচাই করার জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে।



